Type Here to Get Search Results !

West Bengal Class 9 History Suggestion 2023 | নবম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন ২০২৩ | দ্বিতীয় অধ্যায় | আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

দ্বিতীয় অধ্যায়

আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

West Bengal Class 9 History Suggestion 2023 | নবম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন ২০২৩ | দ্বিতীয় অধ্যায় | আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ
West Bengal Class 9 History Suggestion 2023 | নবম শ্রেণীর ইতিহাস সাজেশন ২০২৩ | দ্বিতীয় অধ্যায় | আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

১। বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ-

(১.১) ‘আমিই বিপ্লব’ এবং ‘আমিই বিপ্লবের ধ্বংসকারী’ কথাটি বলেছেন – 

(ক) রোবসপিয়ের 

(খ) দাঁতো 

(গ) সম্রাট নেপোলিয়ন 

(ঘ) রাজা ষোড়শ লুই

উত্তরঃ- (গ) সম্রাট নেপোলিয়ন

(১.২) নেপোলিয়ন ‘ব্যাংক অফ ফ্রান্স’ প্রতিষ্ঠা করেন – 

(ক) ১৮০০ সালে 

(খ) ১৮০২ সালে 

(গ) ১৮০৪ সালে 

(ঘ) ১৮০৬ সালে 

উত্তরঃ- (ক) ১৮০০ সালে

(১.৩) বিপ্লবের সন্তান বলা হয় – 

(ক) অ্যাবে সিয়েসকে 

(খ) রোবসপিয়রকে 

(গ) রুশোকে 

(ঘ) নেপোলিয়নকে

উত্তরঃ- (ঘ) নেপোলিয়নকে

(১.৪) নেপোলিয়ন ‘ইউনিভারসিটি অফ ফ্রান্স’ প্রতিষ্ঠা করেন – 

(ক) ১৮০৫ সালে 

(খ) ১৮০৬ শালে 

(গ) ১৮০৭ সালে 

(ঘ) ১৮০৮ সালে

উত্তরঃ- (ঘ) ১৮০৮ সালে

(১.৫) যে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নেপোলিয়নকে এলবা দ্বীপে নির্বাসিত হতে হয়েছিল তা হল – 

(ক) লাইপজিগের যুদ্ধে 

(খ) প্যারিসের যুদ্ধে 

(গ) ওয়াটার্লুর যুদ্ধে 

(ঘ) ম্যারেঙ্গার যুদ্ধে

উত্তরঃ- (ক) লাইপজিগের যুদ্ধে

(১.৬) নেপোলিয়নের ‘গ্রান্ড আর্মি’ ধ্বংস হয়েছিলো – 

(ক) পিরামিডের যুদ্ধে 

(খ) রাশিয়া অভিযানে 

(গ) প্যারিসের যুদ্ধে 

(ঘ) প্রাশিয়ার যুদ্ধে

উত্তরঃ- (খ) রাশিয়া অভিযানে

(১.৭) ‘স্পেনীয় ক্ষতই আমাকে ধ্বংস করেছে’ – কথাটি বলেছিলেন – 

(ক) রোমের পোপ 

(খ) সম্রাট নেপোলিয়ন 

(গ) মাশার্ল জুর্দান 

(ঘ) রাশিয়ার সম্রাট

উত্তরঃ-  (খ) সম্রাট নেপোলিয়ন

(১.৮) নেপোলিয়নের শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ছিলেন – 

(ক) মুনাট 

(খ) ইউজিন 

(গ) ম্যাসেনা 

(ঘ) ওডিনো

উত্তরঃ- (গ) ম্যাসেনা

(১.৯) নেপোলিয়নের জীবনের শেষ যুদ্ধ – 

(ক) লাইপজিকের যুদ্ধ 

(খ) ওয়াটার্লুর যুদ্ধ 

(গ) উলমের যুদ্ধ 

(ঘ) ম্যারেঙ্গার যুদ্ধ

উত্তরঃ- (খ) ওয়াটার্লুর যুদ্ধ

(১.১০) মৃত্যুকালে নেপোলিয়নের বয়স হয়েছিল – 

(ক) ৩২ বছর 

(খ) ৪২ বছর 

(গ) ৫২ বছর 

(ঘ) ৬২ বছর

উত্তরঃ- (গ) ৫২ বছর 

২। অতিসংক্ষিপ্তপ্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ-

(২.১) কত সালে নেপোলিয়ন ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটান? 

উত্তরঃ- ১৭৯৯ খ্রিঃ

(২.২) কত খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ন নিজেকে সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন? 

উত্তরঃ- ১৮০৪ খ্রিঃ

(২.৩) কোড নেপোলিয়নে ধারার সংখ্যা কটি? 

উত্তরঃ- ২২৮৭ টি

(২.৪) কোড নেপোলিয়ন ঘোষিত হয় কত সালে? 

উত্তরঃ- ১৮০৭ খ্রিঃ

(২.৫) রাইন কনফেডারেশন কত সালে সংঘটিত হয়? 

উত্তরঃ- ১৮০৬ খ্রিঃ

(২.৬) টিলসিটের সন্ধি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়? 

উত্তরঃ- ১৮০৭ খ্রিঃ

(২.৭) কোথায় নেপোলিয়ানকে নির্বাসিত করা হয়েছিল? 

উত্তরঃ- সেন্ট হেলেনা দ্বীপে

(২.৮) সিজালপাইন প্রজাতন্ত্র ইতালিয় প্রজাতন্ত্র হিসাবে ঘোষিত হয় কবে? 

উত্তরঃ- ১৮০২ খ্রিঃ

(২.৯) কোড নেপোলিয়ন এর কয়টি অংশে বিভক্ত ছিল? 

উত্তরঃ- তিনটি

(২.১০) কোড নেপোলিয়ন এর দুটি নীতি লেখ। 

উত্তরঃ- আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা

(২.১১) নেপোলিয়ন কবে রাশিয়া অভিযান করেন? 

উত্তরঃ- ১৮১২ খ্রিঃ

(২.১২) নেপোলিয়নের সেনাদল কি নামে পরিচিত? 

উত্তরঃ- গ্রাঁদ আর্মি

(২.১৩) ‘লিজিয়ন অব অনার’ কে চালু করেন? 

উত্তরঃ- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ান

(২.১৪) ‘বিপ্লবের তরবারি’ রূপে কে পরিচিত? 

উত্তরঃ- নেপোলিয়ান

(২.১৫) ট্রাফালগারের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়েছিল? 

উত্তরঃ- ১৮০৫ খ্রিঃ

(২.১৬) একজন রুশ সাহিত্যিকের নাম লেখ। 

উত্তরঃ- লিও টলস্টয়

(২.১৭) কবে, কার বিরুদ্ধে মিলান ডিগ্রী চালু করেন? 

উত্তরঃ- ১৮০৭ খ্রিঃ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মিলান ডিগ্রী

(৩) নীচের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও ঃ

(৩.১) কোড নেপোলিয়ন বলতে কি বোঝ?

উত্তরঃ- ফ্রান্সের শাসক নেপোলিয়ান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচলিত আইনগুলোর পার্থক্য দূর করে এবং পরস্পর বিরোধী আইন গুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করে 1804 খ্রিস্টাব্দে দেশে এক নতুন আইন ব্যবস্থা চালু করেন। এটি কোড নেপোলিয়ন বা নেপোলিয়নের আইনসংহিতা বলা হয়।

(৩.২) শত দিবসের রাজত্ব বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ- 1817 খ্রিস্টাব্দে লাইপজিগের যুদ্ধে নেপোলিয়ন মিত্রশক্তির নিকট চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন। 1814 খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে মিত্রশক্তির সঙ্গে তিনি ফন্টেন ব্ল‍্যু স্বাক্ষরে বাধ্য হন এবং ভূমধ্যসাগরের এলবা দ্বীপে নির্বাসন কাটিয়ে তিনি ফ্রান্সে ফিরে আসেন এবং রাজা অষ্টাদশ লুই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। নেপোলিয়ন 1815 খ্রিস্টাব্দে মার্চ মাস থেকে ওই বছরের জুন মাসে ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজিত ও সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত হয় মধ্যবর্তীকালে প্রায় 100 দিন শাসন করেছিলেন। এই সময় কালকে ফ্রান্সের ইতিহাসে শত দিবসের রাজত্ব বলা হয়ে থাকে।

(৩.৩) নেপোলিয়ানকে ‘বিপ্লবের সন্তান’ বলা হয় কেন?

উত্তরঃ- নেপোলিয়ানকে বিপ্লবের সন্তান বলা হয়, কারণ -  (১) ফরাসি বিপ্লবের উদারনীতি নেপোলিয়ানকে ফ্রান্সের ক্ষমতা দখলে সহায়তা করেছিল। (২) ফরাসি বিপ্লব প্রসূত সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শ নেপোলিয়ান তার শাসনকালে কার্যকর করেছিলেন। (৩) ফরাসি বিপ্লবের মূল আদর্শগুলি তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেন।

(৩.৪) ‘মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা’ বলতে কি বোঝো?

উত্তরঃ- যুদ্ধে অপরাজেয় ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত করার জন্য নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ইউরোপের বন্দরগুলিতে ইংল্যান্ডের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে দেন। এইভাবে ইউরোপ মহাদেশের বন্দরগুলিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ জারি করা হয় তা মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা নামে পরিচিত।

(৩.৫) রাইন কনফেডারেশন কাকে বলে?

উত্তরঃ- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন জার্মানির উটেমবার্গ, বেডেন, হেসবার্গ প্রভৃতি ছোট ছোট রাজ্য দখল করে এদের নিয়ে কনফেডারেশন বা রাষ্ট্র সমবায় গঠন করেন। এটি ‘কনফেডারেশন অফ দ্য রাইন’ নামে পরিচিত।

(৩.৬) ‘স্পেনীয় ক্ষতি’ কি?

উত্তরঃ- ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন স্পেন দখল করে সেখানকার সিংহাসনে নিজের ভাই জোসেফকে বসিয়ে দিলে, স্পেনবাসী নেপোলিয়ানের বিরুদ্ধে মুক্তি সংগ্রাম শুরু করে। স্পেনের যুদ্ধে নেপোলিয়নের বাহিনীর শোচনীয় পরাজয় ঘটে এবং জোসেফ স্পেন থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হন। স্পেনে নেপোলিয়নের এই সামরিক ব্যর্থতা ‘স্পেনীয় ক্ষতি’ নামে পরিচিত।

(৩.৭) নেপোলিয়ানকে ‘বিপ্লবের ধ্বংসকারী’ বলা হয় কেন?

উত্তরঃ- নেপোলিয়ানকে বিপ্লবের ধ্বংসকারী বলা হয়, কারণ - (১) বিপ্লবের স্বাধীনতার আদর্শ তিনি ধ্বংস করেন। (২) বিপ্লব ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছিল কিন্তু তিনি ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। 

(৩.৮) নেপোলিয়ানের ‘গ্রাঁদ আর্মি’ কী?

উত্তরঃ- গ্রাঁদ আর্মি ছিল নেপোলিয়নের অত্যান্ত শক্তিশালী সেনাদল। নেপোলিয়ান তার গ্রাঁদ আর্মি নিয়ে 1812 খ্রিস্টাব্দে রাশিয়া অভিযান করলে সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্যাভাব, মারণ রোগ, রুশ গেরিলা আক্রমণ প্রভৃতি কারণে এই বাহিনী ধ্বংস হয়।

(৪) নীচের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও ঃ

(৪.১) নেপোলিয়নের বিভিন্ন সংস্কার গুলি নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তরঃ- ফরাসি শাসক নেপোলিয়ান শুধু সমরকুশলী যোদ্ধা হিসেবে নয়, সুদক্ষ সংস্কারক হিসেবেও কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে তার সাম্রাজ্যের পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করেছিলেন। 

নেপোলিয়নের সংস্কারঃ -

নেপোলিয়নের প্রধান সংস্কার গুলি হল - 

(এক) শাসনতান্ত্রিক সংস্কার: নেপোলিয়ান ফ্রান্সে আইনের শাসন প্রবর্তন করেন এবং জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা দেন। সমগ্র দেশকে 83 টি ডিপার্টমেন্ট বা প্রদেশে বিভক্ত করে সেখানে প্রিফেক্ট নামে শাসক নিয়োগ করেন। তিনি প্রদেশ গুলিতে বিভিন্ন জেলায় বিভক্ত করে সেখানে সাব-প্রিফেক্ট নামে শাসক নিয়োগ করেন।

(দুই) শিক্ষা সংস্কার: নেপোলিয়ন বেশ কিছু মাধ্যমিক ফলিত, বিজ্ঞান, কারিগরি, আইন, শিক্ষক, শিক্ষণ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তাছাড়াও ‘ইউনিভার্সিটি অফ ফ্রান্স’ প্রতিষ্ঠা করেন।

(তিন) অর্থনৈতিক সংস্কার: দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট দূর করার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ন বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। তিনি সরকারি ব্যয় হ্রাস ও অডিট প্রথা চালু করেন, তাছাড়া সবাইকে আয়কর প্রদানে বাধ্য করেন। আর ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতির জন্য ‘ব্যাংক অফ ফ্রান্স’ প্রতিষ্ঠা করেন।

(চার) ধর্মীয় সংস্কার: নেপোলিয়ন সপ্তম পায়াসের সঙ্গে কনকর্ডাটা বা ধর্ম মীমাংসা চুক্তি স্বাক্ষর করে পোপের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে নেন। এই চুক্তি অনুসারে - (১) পোপ ফরাসি গির্জা ও সম্পত্তির জাতীয়করণ মেনে নেন। (২) তাছাড়াও স্থির হয় যে সরকার যাজকদের নিয়োগ করবে এবং পোপ তাদের স্বীকৃতি দেবে।

(পাঁচ) আইন বিষয়ক সংস্কার: নেপোলিয়ন বিভিন্ন প্রদেশের প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের আইন গুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে 1804 খ্রিস্টাব্দে 2287 টি বিধি সম্বলিত ‘কোড নেপোলিয়ন’ নামে একটি আইন প্রবর্তন করেন। এর প্রধান দিক গুলি ছিল - (১) সামন্ততন্ত্র বিলুপ্তি (২) ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকারের স্বীকৃতি, (৩) আইনের দৃষ্টিতে সাম‍্য, (৪) ধর্মীয় সহনশীলতা, (৫) সরকারি চাকরিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ।

      নেপোলিয়নের সংস্কার কার্যাবলীর দ্বারা বিপ্লব বিধ্বস্ত ফ্রান্সে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনেন। ঐতিহাসিক ডেভিড টমসন বলেছেন যে, নেপোলিয়নের শাসন শুধু প্রজাহিতৈষী ছিল না, তা -''বর্তমান কালের একনায়কতন্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি মানবিক ছিল।''

(৪.২) ট্রাফালগারের যুদ্ধের বিবরণ দাও।

উত্তরঃ- ফরাসি শাসক নেপোলিয়ন 1798 খ্রিস্টাব্দে নীলনদের যুদ্ধে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হলে ইংল্যান্ডের প্রতি তার আক্রোশ সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরূপ 1805 খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ সংঘটিত হয়। 

    ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে অ‍্যামিয়েন্সের সন্ধি ভেঙ্গে যাওয়ার পর নেপোলিয়ান বিভিন্ন ঘটনায় ইংল্যান্ডের উপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি সরাসরি ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে ইংল্যান্ড আক্রমণের উদ্দেশ্যে ইংলিশ চ্যানেল ও উত্তর সাগরের তীরে দুই লক্ষাধিক সেনা সমাবেশ করেন।

     এই পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে অস্ট্রিয়া, রাশিয়া ও সুইডেনকে নিয়ে 1805 খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স বিরোধী তৃতীয় শক্তি জোট গড়ে ওঠে। এই শক্তি জোট ভাঙার উদ্দেশ্যে নেপোলিয়ান দ্রুতগতিতে অস্ট্রিয়াকে আক্রমণ করে উলমের যুদ্ধে পরাজিত করেন।

    নেপোলিয়নের ইংল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই ইংরেজ নৌসেনা নেলসন ফরাসি সেনাপতি ভিলনেউভকে ট্রাফালগারের নৌযুদ্ধ শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। যুদ্ধে ফরাসি নৌবহর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।

(৪.৩) ওয়াটারলুর যুদ্ধ সম্পর্কে কি জানো। 

উত্তরঃ- নেপোলিয়ন এলবা দ্বীপের নির্বাচন থেকে গোপনে ফ্রান্সে ফিরে এসে শাসন ক্ষমতা দখল করলে ফ্রান্স বিরোধী বিজয়ী মিত্রশক্তিবর্গ তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে। 

ওয়াটারলুর যুদ্ধঃ-

(এক) আক্রমনের উদ্যোগঃ নেপোলিয়ন বিরোধী মিত্র শক্তি নেপোলিয়নকে আইন বহির্ভূত ব্যক্তি আখ্যা দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্রান্স আক্রমণের উদ্যোগ নেয়।

(দুই) আক্রমনঃ ইংল্যান্ড, প্রাশিয়া, রাশিয়া ও অষ্ট্রিয়ার সেনাদল বিভিন্ন দিক থেকে ফ্রান্স আক্রমণ করে। তীব্র আক্রমণ সত্বেও নেপোলিয়ানের বাহিনী প্রথম পর্যায়ে লিঞ্জি ও কোয়াটার ব্রাসের যুদ্ধে জয়লাভ করে।

(তিন) ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজয়: নেপোলিয়নের প্রাথমিক সাফল্যের পর ব্রিটিশ সেনাপতি আর্থার ওয়েলেসলি বা ডিউক অব ওয়েলিংটনের কাছে ওয়াটার লুর যুদ্ধে নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে। আর 15 ই জুলাই তিনি ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

(চার) নির্বাসন: ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়ন পরাজিত হলে বিজয়ী শক্তিবর্গ তাকে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেয়। সেখানে অত্যন্ত অনাদরে 1821 খ্রিস্টাব্দে এই বীর যোদ্ধার মৃত্যু হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.
  1. উত্তরগুলি
    1. সম্রাট নেপােলিয়ন জার্মানি জয় করার পর সমগ্র জার্মানিকে 39টি রাজ্যে বিভক্ত করে। 1806 খ্রিস্টাব্দে 28টি রাজ্য নিয়ে যে রাষ্ট্রসংঘ গড়ে তােলেন, তাকেই বলা হয় কনফেডারেশন অভ দ্য রাইন' বা 'রাইনের রাষ্ট্রসংঘ।

      মুছুন

Top Post Ad

LightBlog

Below Post Ad

LightBlog

AdsG

close