Type Here to Get Search Results !

West Bengal Class 9 Bengali Suggestion 2023 | নবম শ্রেণীর বাংলা সাজেশন ২০২৩ | ধীবর বৃত্তান্ত | কালিদাস

ধীবর বৃত্তান্ত
কালিদাস

West Bengal Class 9 Bengali Suggestion 2023 | নবম শ্রেণীর বাংলা সাজেশন ২০২৩ | ধীবর বৃত্তান্ত | কালিদাস
West Bengal Class 9 Bengali Suggestion 2023 | নবম শ্রেণীর বাংলা সাজেশন ২০২৩ | ধীবর বৃত্তান্ত | কালিদাস

(১) বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :


প্রশ্নঃ 'ধীবর বৃত্তান্ত'নাট্যাংশটি কার লেখা?

(ক) বানভট্ট

(খ) অদ্বৈত্য মল্লবর্মন

(গ) ভবভূতি

(ঘ) কালিদাস

উত্তর : (ঘ) কালিদাস


প্রশ্নঃ 'ধীবর বৃত্তান্ত'নাট্যাংশটি কোন নাটক থেকে সংকলিত?

(ক) রঘুবংশ

(খ) অভিজ্ঞান শকুন্তলম্‌

(গ) কুমারসম্ভব

(ঘ) মৃচ্ছকটিক

উত্তর : (খ) অভিজ্ঞান শকুন্তলম্‌


প্রশ্নঃ শকুন্তলার বিয়ে হয়েছিল কোথায়?

(ক) কণ্বের আশ্রমে

(খ) দুষ্মন্ত রাজধানীতে

(গ) দুর্বাসা মুনির আশ্রমে

(ঘ) শচী তীর্থে

উত্তর: (ক) কণ্বের আশ্রমে

 

 প্রশ্নঃ নাট্যাংশ থেকে কয়জন অভিনেতা আছেন?

(ক) ছয় জন

(খ) পাঁচ জন

(গ) চারজন

(ঘ) দুজন

উত্তর: (গ) চারজন


প্রশ্নঃ ধীবর কোথায় থাকে?

(ক) শক্রাবতারে

(খ) রাজধানীতে

(গ) শচী তীর্থে

(ঘ) দুর্বাসা মুনির আশ্রমে

উত্তর: (ক) শক্রাবতারে


প্রশ্নঃ নাটক শোটিতে যে চারজন অভিনয় করেছেন, তারা হলেন -

(ক) সূচক, জালুক, দুর্বাসা, রাজশ্যাল

(খ) ধীবর, রাজশ্যালক, জানুক, সূচক

(গ) কণ্ব, ধীবর, জালুক, সূচক

(ঘ) জালক, সূচক, দুর্বাসা, রাজশ্যালক

উত্তর: (খ) ধীবর, রাজশ্যালক, জানুক, সূচক


প্রশ্নঃ 'তোর জীবিকা বেশ পবিত্র'-জীবিকাটি কি?

(ক) দর্জির কাজ করা

(খ) চাষ করা

(গ) জন কাটা

(ঘ) মাছ ধরা

উত্তর: (ঘ) মাছ ধরা


প্রশ্নঃ ধীবরকে রক্ষীরা ধরে এনেছিল কেন?

(ক) আংটি চুরি করেছিল বলে

(খ) মাছ চুরি করেছিল বলে

(গ) চুরি করা আংটি বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল বলে

(ঘ) এর কোনোটিই নয়

উত্তর: (গ) চুরি করা আংটি বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল বলে


প্রশ্নঃ 'আমি খণ্ড-খণ্ড করে কাটলাম' -বক্তা কি কেটেছিল?

(ক) ভেটকি মাছ

(খ) রুই মাছ

(গ) পাঙ্গাস মাছ

(ঘ) ইলিশ মাছ

উত্তর: (খ) রুই মাছ


পশ্নঃ  ধীবর আংটিটা কোথায় দেখতে পেয়েছিল?

(ক) হাটে বিক্রি হচ্ছিল

(খ) রাস্তার মাঝখানে

(গ) জলের ভিতর

(ঘ) রুই মাছের পেটে

উত্তর: (ঘ) রুই মাছের পেটে


প্রশ্নঃ ধীবর কিভাবে সংসার চালায়?

(ক) মাছ ধরে

(খ) মাছ বিক্রি

(গ) কৃষি কাজ করে

(ঘ) জন খেটে

উত্তর: (ক) মাছ ধরে


প্রশ্নঃ 'এর গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছে',-কার কথা বলা হয়েছে-

(ক) সূচক

(খ) শ্যালক

(গ) ধীবর

(ঘ) দুষ্মন্ত

উত্তর: (গ) ধীবর


প্রশ্নঃ 'সুতরাং রাজবাড়ীতে যাই'-রাজবাড়ীতে যাওয়ার কারন কি?

(ক) ধীবরকে রাজার হাতে তুলে দিতে

(খ) আন্টির বিষয়ে ধীবর যা বলেছে তার সত্যতা অনুসন্ধান করে দেখতে

(গ) রাজার কাছে নালিশ করতে

(ঘ) রাজার সঙ্গে দেখা করতে

উত্তর: (খ) আন্টির বিষয়ে ধীবর যা বলেছে তার সত্যতা

অনুসন্ধান করে দেখতে


প্রশ্নঃ 'চল রে গাঁটকাটা'-বক্তা কে?

(ক) প্রথম রক্ষী

(খ) দ্বিতীয় রক্ষী

(গ) দুষ্মন্ত

(ঘ) দুই রক্ষী

উত্তর: (ঘ) দুই রক্ষী


প্রশ্নঃ 'আমাদের প্রভু দেখি খুব বিলম্ব হচ্ছে'-প্রভু কে?

(ক) কণ্ব

(খ) দুর্বাসা

(গ) রাজশ্যালক

(ঘ) এদের কেউ নন

উত্তর: (গ) রাজশ্যালক


প্রশ্নঃ 'প্রভু, অনুগৃহীত হলাম'-অনুগৃহীত হওয়ার কারণ কি?

(ক) রাজা মৃত্যুদণ্ড দেননি তাই

(খ) রাজা তাকে মুক্তির সঙ্গে আংটির মূল্যের সমান পরিমাণ অর্থ খুশি হয়ে দিয়েছেন, তাই

(গ) রাতে তাকে ক্ষমা করেছেন তাই

(ঘ) রাজা তাকে মুক্তি দিয়েছেন

উত্তর: (খ) রাজা তাকে মুক্তির সঙ্গে আংটির মূল্যের সমান পরিমাণ অর্থ খুশি হয়ে দিয়েছেন, তাই


প্রশ্নঃ আংটিটা রাজার খুব প্রিয় ছিল তা কি করে বোঝা গেল?

(ক) আংটিটা পেয়ে ধীবরকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন বলে

(খ) আংটিটা ধীবরকে মুক্তিসহ পরিতোষিক দিয়েছেন বলে

(গ) আংটিটা দেখে রাজদিয়েছেনার প্রিয়জনের কথা মনে পড়েছিল বলে

(ঘ) আংটিটা পেয়ে ধীবর কে মুক্তি দিয়েছিলেন বলে

উত্তর: (খ) আংটিটা ধীবরকে মুক্তিসহ পরিতোষিক দিয়েছেন বলে


প্রশ্নঃ আংটিটা দেখে মহারাজের কোন প্রিয়জনের কথা মনে হয়েছিল-এ কথা ভাবার কারন কি?

(ক) মহারাজা স্বভাবত গভীর হলেও আংটিটা পেয়ে মুহূর্তকালের জন্য বিহ্বল হয়ে চেয়েছিলেন

(খ) মহারাজা প্রচুর পরিতোষিক দিয়েছিলেন

(গ) মহারাজা অন্যমনস্ক হয়ে ছিলেন

(ঘ) মহারাজা বিস্মিত হয়েছিলেন

উত্তর: (ক) মহারাজা স্বভাবত গভীর হলেও আংটিটা পেয়ে

মুহূর্তকালের জন্য বিহ্বল হয়ে চেয়েছিলেন


প্রশ্নঃ আংটিটা রাজার কাছে মূল্যবান ছিল এই কথা মনে হওয়ার কারণ কি?

(ক) আংটিটি দেখে রাজা বিলম্ব হয়েছে ছিলেন বলে

(খ) আংটিটি দেখে কোনো প্রিয়জনের কথা মনে পড়েছিল বলে

(গ) আংটিটি পেয়ে রাজা ধীবরকে মুক্তি দিয়েছিলেন বলে

(ঘ) আংটিটিতে দামি রত্ন বসানো ছিল বলে

উত্তর: (ক) আংটিটি দেখে রাজা বিলম্ব হয়েছে ছিলেন বলে


প্রশ্নঃ 'ধীবর বৃত্তান্ত' নাট্যাংশ টি কে তরজমা করেছেন?

(ক) সত্যচরণ চক্রবর্তী

(খ) সত্যপ্রিয় চক্রবর্তী

(গ) সত্যব্রত চক্রবর্তী

(ঘ) সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী

উত্তর: (ঘ) সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী


(২) অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্ন ঃ


প্রশ্নঃ 'ধীবর বৃত্তান্ত' নাট্যংশটি কার লেখা?

উত্তর: কালিদাসের


প্রশ্নঃ 'ধীবর বৃত্তান্ত' নাট্যাংশটি মূল কোন্ নাটকের অংশ?

উত্তর: অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকের অংশ


প্রশ্নঃ শকুন্তলার সঙ্গে কার বিয়ে হয়েছিল?

উত্তর: রাজা দুষ্মন্তের


প্রশ্নঃ দুষ্মন্ত শকুন্তলার বিয়ে কোথায় হয়েছিল?

উত্তর: ঋষি কণ্বের আশ্রমে


প্রশ্নঃ ঋষি কণ্বের আশ্রমে অবর্তমানে কোন ঋষি এসেছিলেন?

উত্তর: ঋষি দুর্বাসা


প্রশ্নঃ শকুন্তলাকে কে অভিশাপ দিয়েছিলেন?

উত্তর: ঋষি দুর্বাসা


প্রশ্নঃ শকুন্তলাকে দুর্বাসার অভিশাপ দিয়েছিলেন কেন?

উত্তর: স্বামী দুষ্মন্তের চিন্তায় অন্যমনস্ক হয়ে পড়ায় শকুন্তলা দুর্বাসার আগমন সংবাদ বুঝতে পারেননি। এই অবহেলাই অপমানিত হয় দুর্বাসা শকুন্তলা' কে অভিশাপ দেয়।


প্রশ্নঃ দুর্বাসা মুনি শকুন্তলাকে কি অভিশাপ দিয়েছিলেন?

উত্তর: দুর্বাসা মুনি শকুন্তলাকে এই বলে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে যার চিন্তায় মগ্ন সে ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন।


প্রশ্নঃ শকুন্তলার সখির নাম কি ছিল?

উত্তর: প্রিয়ংবদা


প্রশ্নঃ দুর্বাসা মুনি কিভাবে তার অভিশাপের প্রভাব দূর হবে বলে জানিয়েছিলেন?

উত্তর: প্রিয়ংবদার বিশেষ অনুরোধে দুর্বাসা মুনি জানিয়েছিলেন, যদি তিনি কোন নিদর্শন তার প্রিয়জনকে দেখাতে পারেন তবে অভিশাপের প্রভাব দূর হবে।


প্রশ্নঃ তীর্থ থেকে ফিরে এসে মহর্ষি কণ্ব কি করেছিলেন?

উত্তর:শকুন্তলাকে  পতিগৃহে অর্থাৎ রাজা দুষ্মন্তের কাছে পাঠাবার ব্যবস্থা করেছিলেন।


প্রশ্নঃ শকুন্তলার সখি বাবাকে ভবিষ্যতের স্মারকচিহ্ন বলে মনে করেছিলেন?

উত্তর: রাজা দুষ্মন্ত কণ্বমুনির আশ্রম থেকে বিদায় কালে শকুন্তলার আঙুলে আংটিটি পরিয়ে দিয়েছিলেন তাকে শকুন্তলার সখীরা ভবিষ্যতের স্মারকচিহ্ন বলে মনে করেছিলেন।


প্রশ্নঃ পতিগৃহে যাবার পর শকুন্তলাকে দেখে দুষ্মন্তের প্রতিক্রিয়া কি হয়েছিল?

উত্তর: পতিগৃহে যাবার পর শকুন্তলাকে দেখে দুষ্মন্ত  তাকে চিনতে পারেননি।


প্রশ্নঃ দুষ্মন্ত প্রদত্ত আংটিটি শকুন্তলার কিভাবে হারিয়ে ফেলেছিলেন?

উত্তর:পতিগৃহে যাবার পথে এসো তিথিতে স্নানের পর শকুন্তলা যখন অঞ্জলি দিতে যান তখন আংটিটি হাত থেকে খুলে জলে পড়ে গিয়েছিলো। আর এইভাবে আংটি হারিয়ে যায়।


প্রশ্নঃ ধীবরকে কারা ধরে এনেছিল?

উত্তর:ধীবর কে নগর রক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালক এবং দুজন রক্ষী সূচক ও জালুক ধরে নিয়েছিল।


প্রশ্নঃ জীবনকে রক্ষীরা ভোর এনেছিল কেন?

উত্তর: ধীবর রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা একটি আংটি বিক্রি করার জন্য লোক কে দেখাচ্ছিলো বলে চোর ভেবে তাকে রক্ষীরা ধরে এনেছিল।


প্রশ্নঃ ধীবর কোথায় থাকে?

উত্তর: ধীবর শক্রাবতারে থাকে।


প্রশ্নঃ ধীবর আংটিটি কোথায় পেয়েছিল?

উত্তর: ধীবর আংটিটি রুই মাছের পেটে থেকে পেয়েছিল।


প্রশ্নঃ ধীবর কে গোসাপ খাওয়া জেলে বলে রাজশ্যালকের মনে হয়েছিল কেন?

উত্তর: ধীবরের গা থেকে কাঁচা মাংসের গন্ধ আসছিল বলে রাজশ্যালক তাকে গোসাপ খাওয়া জেলে মনে করেছিলেন।


প্রশ্নঃ ধীবর সংসার চালাতো কিভাবে?

উত্তর: সে জাল, বরশি ইত্যাদি নানা উপায়ে মাছ ধরে সংসার চালাত।


প্রশ্নঃ শ্যালক রাজবাড়ীতে গিয়েছিল কেন?

উত্তর:আংটিটি বিষয়ে ধীবর যা যা বলেছিল তার সত্যি কিনা তা জানতে শ্যালক রাজবাড়ীতে গিয়েছিল।


প্রশ্নঃ ধীবর সম্পর্কে রাজার আদেশ কি ছিল?

উত্তর: রাজা দুষ্মন্ত ধীবর কে আন্টি টির মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ পরিতোষিক সহ মুক্তি দেবার আদেশ দিয়েছিলেন।


প্রশ্নঃ আংটিটি রাজার খুব প্রিয় ছিল-একথা জালুকের মনে হয়েছিল কেন?

উত্তর: আংটিটি ফিরে পেয়ে রাজা ধীবরকেযে পরিমাণ অর্থ পারিতোষিক দিয়েছিলেন তা দেখে জালুক ভেবেছিলো আংটিটি নিশ্চয়ই রাজার খুব প্রিয় ছিল।


প্রশ্নঃ আংটিটি পেয়ে রাজার কোন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?

উত্তর: আংটিটি ফিরেছে রাজা দুষ্মন্ত মুহূর্ত কালের জন্য বিহ্বলভাবে চেয়েছিল।


প্রশ্নঃ মুক্তি ও পারিতোষিক পেয়ে ধীবর কি করেছিল?

উত্তর: মুক্তি পেয়ে খুশিতে ধীবর পারিতোষিকের অর্ধেক রক্ষীদের ফুলের দাম হিসাবে দিয়েছিল।


(৩) ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :


প্রশ্ন: স্বামীর চিন্তায় শকুন্তলা অন্যমনা হয়ে পড়েছিলেন কেন?

উত্তর: শকুন্তলা আশ্রম বালিকা, ঋষি কর্ণে তপবনে তিনি লালিতা। একবার ঋষি কর্ণ গিয়েছিলেন তীর্থদর্শনে। এমন সময় মৃগয়া করতে করতে সেখানে এসে পৌঁছান রাজা দুষ্মন্ত। তিনি ঋষি কর্ণের আশ্রমে কিছুদিন অতিবাহিত করেন। তখন শকুন্তলার প্রতিদিনই আসক্ত হন এবং শকুন্তলাও তার প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে তাদের দুজনের বিবাহ সম্পন্ন হয়। কিন্তু বিবাহের পর দুষ্মন্ত আবার ফিরে আসবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজধানীতে ফিরে গেলেও আর ফিরে আসেননি। প্রিয়জনের এই দীর্ঘ বিচ্ছেদের তার কথা ভাবতে ভাবতে শকুন্তলা অন্যমনা হয়ে পড়েছিলেন। 


প্রশ্ন: দূর্বাশা মনের অভিশাপ কিভাবে শকুন্তলার জীবনে ফলেছিল?

উত্তর: স্বামীর চিন্তায় মগ্ন শকুন্তলাকে দুর্বাসা মুনি অভিশাপ দিয়েছিলেন, 'যার চিন্তায় মগ্ন হয়ে দুর্বাসা মনিকে তিনি যথাযোগ্য আপ্যায়ন করলেন না, তিনি তাঁকে ভুলে যাবেন। তবে যদি তার কোন নিদর্শন তাঁকে দেখাতে পারেন তবেই তাঁকে তার মনে পড়বে। শকুন্তলা ভেবেছিলেন আশ্রম পরিত্যাগের সময় স্বামী দুষ্মন্ত তার যে অঙ্গুরিটি তাকে দিয়েছিলেন সেটি তার ভবিষ্যতের স্মারকচিন্থ হবে। কিন্তু প্রতিগৃহে যাত্রাকালের পথে সচিত্রে স্নানের পর অঞ্জলি প্রদানের সময় আংটিটি খুলে জলে পড়ে যায়। এবং দুর্বাসা মুনির অভিশাপ অনুযায়ী দুষ্মন্ত তাঁকে চিনতে পারলেন না। এই ভাবেই দুর্বাসা মনি অভিশাপ শকুন্তলার জীবনে ফলেছিল। 


প্রশ্ন: রাজশ্যালক ও রক্ষীরা ধীবরকে ধরে এনেছিল কেন?

উত্তর: ধীবর জাতিতে জেলে। মাছ ধরে সে সংসার চালায়। তাই জাল আর বড়শিই তার একমাত্র ভরসা। কাজেই তার কাছে মূল্যবান অলংকার সামগ্রী থাকা একেবারেই অসম্ভব নয়। অথচ এই হের এক মৎস্যজীবীর কাছে একটি রত্নখচিত আংটি পাওয়া গেল। সে রাজা দুষ্মন্তের নাম খোদাই করা, মনি মুক্তাই ঝলমলে একটি আংটি প্রকাশ্যে বিক্রয়ের জন্য লোককে দেখাচ্ছিল। নগর রক্ষক রাজশ্যালক ও প্রহরীর চোখে এই ঘটনাটিকে স্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। তাই তারা চোর ভেবে ধীবরকে ধরে নিয়ে আসে। 


প্রশ্ন: 'কিভাবে এই আংটি আমার কাছে এলো-তা বললাম-বক্তা কে? সে আংটিটা কিভাবে পেয়েছিল?

উত্তর: রাজরক্ষীরা চোর ভেবে যে ধীবরটিকে ধরে এনেছিল সেই বক্তা।। 

    ধীবর একজন মৎস্যজীবী। জাল বড়শি দিয়ে মাছ ধরে সে জীবিকা নির্বাহ করে। কাজেই তার কাছে রাজা দুষ্মন্তের নামাঙ্কিত আংটি থাকাটা স্বাভাবিক নয়। কিন্তু একদিন সে যখন একটি রুই মাছ খন্ড খন্ড করে কাটছিল তখন সেই মাছের পেটের মধ্যে মনি মুক্তায় ঝলমলে আংটিটি ধিবর দেখতে পায়। আর এইভাবে আংটিটি ধীবর পেয়েছিল। 


প্রশ্ন: 'সেই আংটিটা রাজার (খুব) প্রিয় ছিল।' -নাট্যাংশের কোন ঘটনা প্রমাণ করে আংটিটা রাজার খুব প্রিয় ছিল।

উত্তর: নাট্যাংশের ধীবর কে চোর ভেবে রাজশ্যালক ও রক্ষীরা ধরে রাজবাড়ীতে নিয়ে আসে। তারা ভেবেছিল রাজা এই ঘটনায় খুব রুষ্ট হবে এবং ধীবরকে উপযুক্ত শাস্তি দেবেন। কিন্তু এসব কিছুই ঘটল না। বরং রাজা আংটিটিতে মুহূর্তের জন্য বিহ্বলভাবে চেয়েছিলেন। তার দৃষ্টি দেখে রাজশ্যালকের মনে হয়েছিল আংটি দেখে মহারাজের কোন প্রিয়জনের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। তিনি এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে ধীবরকে শাস্তির বদলে মুক্তি দিলেন, এবং আংটিটির সমমূল্যের পারিতোষিকও তাকে দিয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনায় প্রমাণ করে আংটিটি রাজার খুব প্রিয় ছিল।


(৪) নিচের রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :


প্রশ্ন: দুর্বাসামনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন কেন?

উত্তর: শকুন্তলা মহর্ষি কর্ণের আশ্রমে লালিতা। একবার ঋষি কর্ণ তীর্থ দর্শনে গিয়েছিলেন। তখন রাজা দুষ্মন্ত তার আশ্রমে বসে কিছুদিন অতিবাহিত করে। এই সময় আশ্রম বালিকা শকুন্তলার প্রতি তিনি আকৃষ্ট হন। অন্যদিকে শকুন্তলাও রাজা দুষ্মন্তের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ে। অবশেষে তাদের গান্ধর্ব মতে বিবাহও হয়। কিন্তু বিবাহের পর পুনরায় আশ্রমে ফিরে আসবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজা দুষ্মন্ত রাজধানীতে ফিরে যান। কিন্তু আর কোনদিনই রাজা ফিরে আসেননি। অপেক্ষা করতে থাকেন শকুন্তলা, অপেক্ষা ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। ব্যাকুল হয়ে ওঠে তাঁর মন। কোন কাজেই মন লাগে না। ক্রমশই কর্মজীবনে উদাসীন হয়ে পড়েন শকুন্তলা। এমনই এক মুহূর্তের ঋষি দুর্বাসা এলেন ঋষি কর্ণের আশ্রমে। কিন্তু অন্যমনস্ক থাকায় শকুন্তলা জানতেও পারলেন না দুরবাসা মুনের আশ্রম আগমনের সংবাদ। এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হলেন দুর্বাসা মুনি। তিনি অপমানিত বোধ করলেন। আতিথেয় সেবা না পাওয়াই তখন তিনি তাকে অভিশাপ্ত করলেন এই বলে যে, যার কথা ভাবতে গিয়ে তিনি দূরভাষা মনিকে অপেক্ষা করেছেন ,তিনি তাকে ভুলে যাবেন। 


প্রশ্ন: দুর্বাসা মুনির অভিশাপের ফলে কি ঘটেছিল?

উত্তর: ঋষি কর্ণের আশ্রমে তার অবর্তমানে গান্ধর্ব মতে বিবাহ হয়েছিল রাজা দুষ্মন্তের সঙ্গে আশ্রম বালিকা শকুন্তলার। কিন্তু বিবাহের পর আশ্রমে আবার ফিরে আসবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজা দুষ্মন্ত রাজধানীতে ফিরে যান। কিন্তু দিনের পর দিন অতিবাহিত হয়ে যায়। তবু দুষ্মন্ত আর ফিরে আসেন না, স্বামীর চিন্তায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন শকুন্তলা, বারবার অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। এই অন্যমনস্কতার মুহূর্তেই দুরবাসমণি এসেছিলেন কর্ণ মুনির আশ্রমে। কিন্তু অন্য মনা হওয়ায় ব্যাকুলতা দুরবাসা মুনির আগমন সংবাদ বুঝতেও পারলেন না। এতে অপমানিত হলেন দুর্বাসা মুনি। তিনি অভিশাপ দিলেন, যার চিন্তাই শকুন্তলা তাকে অবহেলা করছেন তিনি তাকে ভুলে যাবেন। একবার অর্থই শকুন্তলা এবং দুষ্মন্তের মধ্যে স্থায়ী বিচ্ছেদ ঘটে যাওয়া। তাই শকুন্তলার সখি প্রিয়ংবদার বারংবার অনুরোধের দুর্বাসা মনি জানান, যদি শকুন্তলা কোন অভিজ্ঞান দেখাতে পারেন তবেই দুষ্মন্ত তাকে চিনবেন। দুষ্মন্তের দেওয়া আংটিটি শকুন্তলার কাছে ছিল। কিন্তু দুরবাসা মুনির অভিশাপের শকুন্তলা প্রতিগৃহে যাবার পথে সচিত্রে স্নানের পরে অঞ্জলি দেবার সময় আংটিটি হাত থেকে খুলে জলে পড়ে যায়। নির্দশন  না থাকায় শকুন্তলাকে দুষ্মন্ত চিনতেও পারলেন না। আর এই ভাবেই দূর্বাষা মুনির অভিশাপে শকুন্তলার জীবনে বেদনাতুর হয়ে উঠেছিল। 



প্রশ্ন: 'এমন থেকে তুমি আমার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু হলে'-তারা পরস্পরের বন্ধু হয়েছে? এমন বন্ধুত্বের কারণ কি?

উত্তর: এখানে নগর রক্ষায় নিযুক্ত রাজ শ্যালক এবং চোর সন্দেহ ধৃত ধীবর পরস্পর পরস্পরের বন্ধু হয়েছে। 

    ধীবর একজন মৎস্যজীবী। জাল, বড়শি দিয়ে মাছ ধরে সে মাছ বিক্রি করে সে সংসার চালায়। একদিন একটি রুই মাছের পেটে সেই একটি রাজা দুষ্মন্তের নামাঙ্কিত রত্ন খচিত মূল্যবান আংটি পায়। ধীবর প্রকাশ্যেই আংটি বিক্রির চেষ্টা করতে থাকে। একজন ধীবরের হাতে রাজার নামাঙ্কিত আংটি দেখে রাজশ্যালক অনুমান করে, সে একজন চোর। চোর সন্দেহে রক্ষীরা তাকে নানা রকম কটুক্তি করতে থাকে। তারা দিবর কে রাজার কাছে নিয়ে আসে এবং আংটিটি রাজাকে দেখায়। আংটি দেখে রাজার পূর্ব স্মৃতি মনে পড়ে যায়। তখন রাজশাহ লোক অনুভব করে, যাকে এতক্ষণ তিনি চোর ভাবছিলেন, সে মানুষটি চোর নয়, একজন সত্যবাদী সৎ নাগরিক। শুধু তাই নয় তার আত্মমর্যাদা বোধ, নিজের পেশার প্রতি শ্রদ্ধা ও তাকে মুগ্ধ করেছে। প্রবল রাজশক্তির সামনেও সে ভেঙে পড়েনি, শুধু যা সত্য তাকেই তুলে ধরতে চেয়েছে। আবার সে যে পারিতোষিক পেয়েছিল তাও একা নিতে চায়নি। অন্যদেরও তার অর্ধেক ভাগ দিয়ে দিয়েছে। ধীবরের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুলি, তার সত্যবাদিতা, সততা, আত্মমর্যাদা বোধ, উদার মানসিকতায় রাতসা লোক বুঝেছিলেন জাতিতে নিম্নবর্গী জেলে হলেও সে একজন সৎ নাগরিক। তাই রাজশ্যালক তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তাছাড়া আঁচল ক বুঝেছিলেন এই ধীবরের প্রতি রাজারা কৃতজ্ঞ। কারণ তার একজন আংটিটি ফিরে পেয়েছেন রাজা, ফিরে পেয়েছেন শকুন্তলার স্মৃতি। কাজেই রাজার প্রিয় পাত্র যে হয়ে উঠেছে সেই ধীবরকে তিনি নিজেও প্রিয়জন হিসাবে ভাবতে শুরু করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

6 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

LightBlog

Below Post Ad

LightBlog

AdsG

close