Type Here to Get Search Results !

West Bengal Class 9 Bengali Suggestion 2023 | নবম শ্রেণীর বাংলা সাজেশন ২০২৩ | চিঠি | স্বামী বিবেকানন্দ

 চিঠি
স্বামী বিবেকানন্দ

West Bengal Class 9 Bengali Suggestion 2023 | নবম শ্রেণীর বাংলা সাজেশন ২০২৩ | চিঠি | স্বামী বিবেকানন্দ
West Bengal Class 9 Bengali Suggestion 2023 | নবম শ্রেণীর বাংলা সাজেশন ২০২৩ | চিঠি | স্বামী বিবেকানন্দ

বহু বিকল্প ভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :


প্রশ্নঃ 'কাল তার উত্তর দিয়েছি' - কাল উত্তর দিয়েছেন -

(ক) মি. স্টার্ডির চিঠির

(খ) মিসেস সেভিয়ারের চিঠির

(গ) মিস মুলারের চিঠির

(ঘ) ভগিনী নিবেদিতার চিঠির

উত্তর : (ক) মি. স্টার্ডির চিঠির


প্রশ্নঃ 'তাঁর নিজের ভাবে মিস মুলার'কেমন?

(ক) অদ্ভুত মহিলা

(খ) চমৎকার মহিলা

(গ) অতুলনীয় মহিলা

(ঘ) জেদি মহিলা

উত্তর: (খ) চমৎকার মহিলা


প্রশ্নঃ 'যার এদেশীয়দের ঘৃণা করে না'-এদেশ ওদেশ ঘৃণা করেন না -

(ক) সেভিয়ার দম্পতি

(খ) মিসেস বুল

(গ) স্টার্ডি

(ঘ) মিস ম্যাকলাউড

উত্তর: (ক) সেভিয়ার দম্পতি


প্রশ্নঃ বিশেষত ভারতের নারী সমাজের জন্য কার প্রয়োজন রয়েছে?

(ক) একজন প্রকৃত সিংহীর

(খ) একজন প্রকৃত পুরুষের

(গ) একজন প্রকৃত নেত্রী

(ঘ) একজন প্রকৃত সিংহের মত

উত্তর: (ক) একজন প্রকৃত সিংহীর


প্রশ্নঃ 'তুমি ভারতে আসতে এবং সবকিছু চাক্ষুষ দেখতে দৃঢ়-সংকল্প' - এখানে বলা হয়েছে -

(ক) স্বামী বিবেকানন্দের কথা

(খ) মি. স্টার্ডির কথা

(গ) মিসেস সেভিয়ারের কথা

(ঘ) ভগিনী নিবেদিতার কথা

উত্তর: (ঘ) ভগিনী নিবেদিতার কথা


প্রশ্নঃ ".... তুমি ঠিক সেইরূপ নারী,_____"

(ক) যাকে তোমার দেশের প্রয়োজন

(খ) যে শান্ত নম্র

(গ) যাকে আজ প্রয়োজন

(ঘ) যে বিদ্রহিণী

উত্তর: (ক) যাকে আজ প্রয়োজন


প্রশ্নঃ 'তিনি হতাশ হয়েছেন বলে মনে হয়'-হতাশ হওয়ার কারণ -

(ক) তার চিঠিটি শুষ্ক ও প্রাণহীন

(খ) লন্ডনের কাজ পন্ড হওয়া

(গ) একখানা চিঠি পেয়েছেন বলে

(ঘ) পথের একঘেয়েমি দূর না হওয়ায়

উত্তর: (খ) লন্ডনের কাজ পন্ড হওয়া


প্রশ্নঃ "... তারা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলে..."-তারা এড়িয়ে চলো কেন?

(ক) বিদেশি বলে

(খ) ঘৃণায়

(গ) ভয়ে

(ঘ) ভয়ে বা ঘৃণায়

উত্তর: (ঘ) ভয়ে বা ঘৃণায়


প্রশ্নঃ 'সে পারি ফ্যাশনের পোশাক পরিহিতা মহিলাটি'-মহিলা টি হল -

(ক) মার্গারেট নোবল

(খ) মিস ম্যাকলাউড

(গ) মিসেস সেভিয়ার

(ঘ) মিস বুল

উত্তর: (খ) মিস ম্যাকলাউড


প্রশ্নঃ "... ভারতের কাজে তোমার এক বিরাট____"

(ক) গুরুত্ব রয়েছে

(খ) ভবিষ্যৎ রয়েছে

(গ) ভূমিকা রয়েছে

(ঘ) প্রয়োজন রয়েছে

উত্তর: (খ) ভবিষ্যৎ রয়েছে


প্রশ্নঃ 'তোমাকে শতবার স্বাগত জানাচ্ছি'-স্বাগত জানাচ্ছেন -

(ক) স্বামী বিবেকানন্দ ভগিনী নিবেদিতাকে

(খ) মিসেস সেভিয়ার নিবেদিতাকে

(গ) মিস ম্যাকলাউড নিবেদিতাকে

(ঘ) মিসেস বুল মিসেস সেভিয়ারকে

উত্তর: (ক) স্বামী বিবেকানন্দ ভগিনী নিবেদিতাকে


প্রশ্নঃ "... একবার বেরুলে আর ভিতরে যায় না..." - কি?

(ক) হাতির শুঁড়

(খ) হাতির ডাক

(গ) হাতির লেজ

(ঘ) হাতির দাঁত

উত্তর: (ঘ) হাতির দাঁত


প্রশ্নঃ 'চিঠিটি বড় শুষ্ক এবং প্রাণহীন' - কার চিঠি শুষ্ক এবং প্রাণী -

(ক) স্বামী বিবেকানন্দের

(খ) মিস ম্যাকলাউডের

(গ) মি. স্টার্ডির

(ঘ) ভগিনী নিবেদিতার

উত্তর:মি. স্টার্ডির


প্রশ্নঃ "... এই আমার প্রতিজ্ঞা।"-প্রতিজ্ঞাটি কি?

(ক) তোমাকে এদেশ চেনাবো

(খ) আমারণ তোমার পাশে থাকার চেষ্টা করব

(গ) তোমাকে মুক্তির পথ দেখাবো

(ঘ) আমরণ তোমার পাশে থাকবো

উত্তর: (ঘ) আমারণ তোমার পাশে থাকবো


প্রশ্নঃ 'খাঁটি লোকের' কথার কি হয় না?

(ক) নড়চড় হয় না

(খ) মূল্য হয় না

(গ) বিকল্প হয় না

(ঘ) ব্যাখ্যা হয় না

উত্তর: (ক) নড়চড় হয় না


অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :


প্রশ্নঃ মিসেস সেভিয়ার কেমন মহিলা?

উত্তর: মিসেস সেভিয়ার অত্যন্ত ভালো ও স্নেড়ময়ী মহিলা। স্বামীজী তাকে নারীকুলের রত্ন বিশেষ বলে উল্লেখ করেছেন।


প্রশ্নঃ 'যাকে আজ প্রয়োজন'-কাকে প্রয়োজন বলে মনে করেছেন বক্তা?

উত্তর: স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবল বা ভগিনী নিবেদিতাকে ভারতের নারী সমাজের দুর্গতি মোচনের জন্য প্রয়োজন বলে মনে করেছেন।


প্রশ্নঃ মি. স্টার্ডির লেখা চিঠিটি কেমন ছিল?

উত্তর:মি. স্টার্ডির লেখা চিঠিটি ছিল বড় শুষ্ক, প্রাণহীন এবং হতাশাপূর্ণ।


প্রশ্নঃ মিস ম্যাকলাউড কবে মারা যান?

উত্তর: ১৯৪৯ খিষ্টাব্দে আমেরিকার হলিউড শহেরে মিস ম্যাকলাউড এর মৃত্যু হয়।


প্রশ্নঃ কয়েকটি চিঠিতে স্বামীজি মিসেস বুল কে কি বলে সম্বোধন করেছেন?

উত্তর; কিছু চিঠিতে স্বামীজি মিসেস বুল কে মা বা ধীরামাতা বলে সম্বোধন করেছেন।


প্রশ্নঃ মিসেস বুল এর সম্পূর্ণ নাম কি ছিল?

উত্তর: মিসেস বুল এর সম্পূর্ণ নাম ছিল সারা বুল।


প্রশ্নঃ মিসেস সেভিয়ারের শ্রেষ্ঠ কীর্তি কি?

উত্তর:মিসেস সেভিয়ারের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হল স্বামীজীর ইচ্ছায়  বেদান্ত প্রচারের উদ্দেশ্যে মায়াবতী অদ্বৈত আশ্রম প্রতিষ্ঠা করা।


প্রশ্নঃ মিস নোবল কবে মারা যান?

উত্তর:মিস নোবল ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে দার্জিলিং-এ দেহত্যাগ করেন।


প্রশ্নঃ ভগিনী নিবেদিতার প্রকৃত নাম কি?

উত্তর: ভগিনী নিবেদিতার প্রকৃত নাম মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল।


প্রশ্নঃ মিসেস বুল এর বয়স কত ছিল?

উত্তর:পঞ্চাশ


প্রশ্নঃ মিস নোবল ভারতে আসতে চেয়ে ছিলেন কেন?

উত্তর: ভারতের সার্বিক উন্নয়ন বিশেষত নারী সমাজের উন্নতির জন্য মিস নোবল এ দেশে আসতে চেয়েছিলেন।


প্রশ্নঃ মিসেস বুলের কোথায় বাসস্থান ছিল?

উত্তর: মিসেস বুল এর বাসস্থান ছিল নরওয়ে। তিনি নরওয়েবাসী বিখ্যাত বেহালাবাদক মি. ওলি বুলের স্ত্রী।


প্রশ্নঃ মিসেস বুল কোথায় থাকতেন?

উত্তর: মিসেস বুল আমেরিকার বস্টন শহরে থাকতেন।


প্রশ্নঃ মিস নোবেল কোথায় স্বামী বিবেকানন্দের সান্নিধ্যে আসেন?

উত্তর: মিস নোবল ইংল্যান্ডে স্বামী বিবেকানন্দের সান্নিধ্যে আসেন।


প্রশ্নঃ মিসেস সেভিয়ার বহু বছর কোথায় ছিলেন?

উত্তর: মিসেস সেভিয়ার বহুবছর মায়াবতী এবং শ্যামলা বাস করেছিলেন।


প্রশ্নঃ মিস ম্যাকলাউড কে স্বামীজি কি নামে ডাকতেন?

উত্তর: মিস ম্যাকলাউডকে স্বামীজি 'জো' নামে ডাকতেন।


(৩) নিচের ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ


প্রশ্নঃ "একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন।" - কে কাকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেছেন? বক্তা তাকে 'প্রকৃত সিংহী' বলেছেন কেন?

উত্তরঃ 'চিঠি' রচনার উল্লিখিত অংশে স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে 'প্রকৃত সিংহী' বলেছেন।

     বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে এক ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে দেখেছেন। তার মধ্যে রয়েছে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা। নোবেলের শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা,অসীম ভালোবাসা, দৃঢ়তা এবং তার ধমনিতে প্রবাহিত রক্তের জন্য তাকেই সেই নারী হিসেবে বিবেকানন্দ ভেবেছেন, যাঁকে এদেশের প্রয়োজন। এইসব গুণের কারণেই তিনি সিংহীর সমকক্ষ হয়ে উঠেছেন।


প্রশ্নঃ "তার বর্তমান সংকল্প এই যে.." - তার বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তার বর্তমান সংকল্প কী লেখো।

উত্তরঃ 'চিঠি' রচনার উল্লিখিত অংশে 'তার' বলতে মিস মুলারের কথা বলা হয়েছে।

মিস মুলার, যিনি নিজেকে 'আজন্ম নেত্রী' বলে মনে করতেন। তিনি সংকল্প করেছিলেন যে, কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নেবেন। এই বাড়িটিতে তিনি, মিস নোবেল আর ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে যেসব বন্ধুদের আসার সম্ভাবনা আছে তারা থাকবেন বলে মিস মুলার ভেবেছিলেন।


প্রশ্নঃ "কিন্তু বিঘ্নও আছে বহু।" - কোন্ কোন্ বিয়ের কথা বলা হয়েছে লেখো।

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে যেসব বিঘ্নের কথা বলেছেন, তারমধ্যে প্রথমেই উল্লেখ্য এদেশের মানুষের দুঃখ, কুসংস্কার, দাসত্ব। মানুষের দারিদ্র্য একটা প্রধান বাধা! জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতা তাদের আলাদা করে রেখেছে। ভয় অথবা ঘৃণা—যে কারণেই হোক, তারা শ্বেতাঙ্গদের এড়িয়ে চলে। এদের সঙ্গে নোবেল মিলতে চাইলে শ্বেতাঙ্গরাও তাকে সন্দেহ করতে পারে। এ ছাড়া গ্রীষ্মপ্রধান জলবায়ু এবং শহরের বাইরে সুখস্বাচ্ছন্দ্যের অভাবও বাধা হয়ে উঠতে পারে।


প্রশ্নঃ "তার সঙ্গে বনিয়ে চলা অসম্ভব।" - কার সম্পর্কে কেন এ মন্তব্য করা হয়েছে?

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবেলকে উদ্দেশ্য করে মিস্ মুলার সম্পর্কে মন্তব্যটি করেছেন। মিস মুলার, বিবেকানন্দের মতে, তার নিজের ভাবে চমৎকার মহিলা। কিন্তু ছেলেবেলা থেকেই নিজেকে নেত্রী ভাবা এবং নিজের ক্ষমতায় অতিরিক্ত বিশ্বাস তাকে বিচ্ছিন্ন করে তুলেছে। বিবেকানন্দের মনে হয়েছে যে মিস নোবেলও অল্পদিনেই বুঝে নিতে পারবেন যে, মিস মুলারের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়।

(৪) নিচের রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ


প্রশ্নঃ "তোমাকে একটু সাবধান করা দরকার..." - কাকে, কেন সাবধান করা দরকার? কী বিষয়ে সাবধান করা দরকার?

উত্তরঃ মিস নোবেল ভারতবর্ষে এসে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় স্বামী বিবেকানন্দ তাকে কিছু বিষয়ে সাবধান করা দরকার বলে মনে করেছেন। এর কারণ হল, ভারতে এসে যে বৃহৎ ও মহৎ কর্মযজ্ঞে মিস নোবেল নামতে চলেছেন, তাতে তাকে অবশ্যই স্বনির্ভর হতে হবে। মিস মুলারের মতো কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে মার্গারেটের জনসেবার কাজটি বিঘ্নিত হবে। প্রধানত এ বিষয়েই স্বামীজি মিস নোবেলকে সাবধান করেছিলেন।

      ভারতের জন্য, বিশেষত ভারতীয় নারীসমাজের উন্নতির জন্য মিস নোবেলকে অনেক দায়িত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে তাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, অন্যের ওপর নির্ভর করা চলবে না বলে স্বামীজি পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে মিস মুলার বা অন্য কারও ছত্রছায়ায় আশ্রয় না নিয়ে মিস নোকে আত্মনির্ভর হতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়ালে সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে স্বামীজি তাকে সাহস জুগিয়েছেন। মিস মুলার ভালো মহিলা হলেও পৃথিবীকে বদলে দিতে একমাত্র টাকারই প্রয়োজন আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি নিজেকে আজন্ম নেত্রী বলে মনে করেন। তার মেজাজ রুক্ষ, চিত্ত অস্থির। তাই তার সঙ্গে মিস নোবেল বেশিদিন মানিয়ে চলতে পারবেন না। এইসব বিষয়েই স্বামীজি মিস নোবেলকে সাবধান করে দিতে চেয়েছেন।


প্রশ্নঃ স্বামী বিবেকানন্দ লিখিত পাঠ্য চিঠির বিষয়বস্তু আলাোচনা করো।

উত্তরঃ লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে মিস নোবেলের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। স্বামীজির বক্তৃতায় তিনি অনুপ্রাণিত হন। পরবর্তীকালে ইংরেজ ভক্ত মি. স্টাডির চিঠি থেকে স্বামীজি জেনেছেন যে, মিস নোবেল 'ভারতে এসে সবকিছু চাক্ষুষ দেখতে দৃঢ়সংকল্প'। মিস মুলারের কাছ থেকে স্বামীজি নোবেলের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জেনেছেন। কিন্তু ভারতের সামগ্রিক পরিবেশ ও পরিস্থিতি ইউরোপ-আমেরিকার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কুসংস্কার, অস্পৃশ্যতা, জাতিভেদ, ইংরেজ প্রভুর দাসত্ব আর প্রবল দারিদ্র্য প্রভৃতি এখানকার মানুষদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। এদেশের আবহাওয়াও উন্নপ্রধান। এসব জেনেও যদি মিস নোবেল ভারতের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে চান, তাহলে সেখানে তার সামনে এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে বিশেষ করে ভারতীয় নারীসমাজ তার দ্বারা অসীম উপকৃত হতে পারে। তার মতো শিক্ষিতা, একনিষ্ঠ, পবিত্র, প্রেমময়ী, দৃঢ়চেতা এবং সুপ্রাচীন কেলটিক সভ্যতাজাত উন্নত চরিত্রের নারীকে এদেশের প্রয়োজন। এদেশে এসে স্বনির্ভর হয়ে তাকে কাজ করতে হবে। তার পাশে স্বামীজি আমরণ থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এইসব, তথ্য ও মতামত জানিয়ে মিস নোবেলকে স্বামীজি সরাসরি চিঠি লিখেছেন।

     এছাড়া কয়েকজন ইউরোপীয় ব্যক্তির চরিত্র বিশ্লেষণ ও কর্মপদ্ধতি এই চিঠিতে আলোচনা করেছেন লেখক। তারপর তিনি মিস নোবেল এদেশে এলে তার কী কাজ হবে সে বিষয়েও নির্দেশ দিয়েছেন।

     ভারতের উন্নতির জন্য, বিশেষত ভারতীয় নারীসমাজের শিক্ষা-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য যেরূপ নারীর প্রয়োজন, মিস নোবেল সেইরূপ নারী। যুগ যুগ ধরে লাঞ্ছিত বঞ্চিত-অসম্মানিত ভারতীয় নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য, পুরুষের চেয়ে একজন প্রকৃত সিংহীর মতো।

     তেজস্বিনী নারীর প্রয়োজন। মিস নোবেল শিক্ষিতা, দৃঢ়মনের অধিকারিণী। তার মধ্যে আছে পবিত্রতা, আন্তরিকতা আর অসীম ভালোবাসা। সর্বোপরি তার রক্তে বইছে প্রাচীন উন্নত কেলটিক সভ্যতার ঐতিহ্য। তাই তিনি সেইরূপ নারী, যাঁকে উনিশ শতকীয় ভারতবর্ষের বিশেষ প্রয়োজন। | মিস নোবেলের সম্পূর্ণ নাম মিস মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল। তিনি স্বামীজির সুযোগ্য শিষ্যা। লন্ডনে স্বামীজির সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয়। ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি তিনি ভারতে আসেন এবং এদেশের সার্বিক উন্নতির কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেন। ব্রহ্মচর্যব্রতে দীক্ষা নেওয়ার পর তার নাম হয় ভগিনী নিবেদিতা। ভারতে নারীশিক্ষার প্রসারে ও স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কলকাতার বাগবাজারে তিনি একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন, যা আজ 'নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়' নামে পরিচিত। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ৪৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।


প্রশ্নঃ "যারা এদেশীয়দের ঘৃণা করেন না" - 'যাঁরা' কারা? তাদের সম্পর্কে যা জান লেখো।

উত্তরঃ স্বামী বিবেকানন্দ তার 'চিঠি' রচনার উল্লিখিত অংশে 'যারা' বলতে সেভিয়ার দম্পতির কথা বলেছেন। মিস নোবেলের ভারতে আসার আগে বিবেকানন্দ অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে তাকে এদেশে আগত ইউরোপীয় বা অন্য বিদেশি যারা ভারতের জন্য কাজে উদ্যোগী তাদের সম্পর্কেও ধারণা দিতে চেয়েছেন। সেখানে মিস মুলারের মতো নিজেকে 'আজন্ম নেত্রী' ভাবা এবং বদমেজাজি মানুষের পাশাপাশিই উল্লেখ করেছেন মিসেস সেভিয়ারের কথা বিবেকানন্দের কাছে তিনি হলেন 'নারীকুলের রত্নবিশেষ'। মিসেস সেভিয়ার এবং তার স্বামী ক্যাপটেন জে এইচ সেভিয়ার বেদান্ত প্রচারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং স্বামীজির ইচ্ছাতেই তারা মায়াবতী অদ্বৈত আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ইউরোপীয় হওয়া সত্ত্বেও এদেশের মানুষদের প্রতি তাদের কোনো ঘৃণার ভাব ছিল না। এদেশের মানুষদের ওপরে প্রভুত্ব করার কোনো চেষ্টাও তারা করতেন না। তবে সেভিয়ার দম্পতির যে কোনো নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী নেই, বিবেকানন্দ তা-ও বলেছেন। তবুও সহকর্মী হিসেবে তারাই বেশি গ্রহণযোগ্য হবেন বলে বিবেকানন্দ নোবেলকে মত দিয়েছেন।


প্রশ্নঃ স্বামী বিবেকানন্দ রচিত পাঠ্য 'চিঠি'-কে ব্যক্তিগত পত্ন না সামাজিক পত্র—কোন্ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা যায়?

উত্তরঃ বিষয়বস্তু অনুসারে চিঠিকে নানা শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে প্রধান দুটি ভাগ হল ব্যক্তিগত পত্র ও সামাজিক পত্র। পাঠ্য 'চিঠি'-টি একজন ব্যক্তি স্বামী বিবেকানন্দ মিস নোবেলের উদ্দেশ্যে লিখেছেন। সেদিক থেকে এই চিঠিকে ব্যক্তিগত পত্র বলাই যায়। কিন্তু সব চিঠিই ব্যক্তির সঙ্গে কোনো-না- কোনো ভাবে সম্পর্কিত। তবে স্বামীজির এই চিঠিটি ব্যক্তিগত স্তর অতিক্রম করে সামাজিক স্তরে উত্তীর্ণ হয়েছে, কারণ এই চিঠিতে উনিশ শতকীয় ভারত ও তার দুর্দশাময় সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে। মানবসেবার বৃহত্তর স্বার্থে এ চিঠি লিখিত, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। ভারতীয় সমাজে মানবসেবার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করতে মিস নোবেল এদেশে আসতে চান। এ কথা জেনে স্বামীজি তাকে এদেশের সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতটি বোঝানোর জন্য এ চিঠি লিখেছেন। ভারতীয়দের দাসত্ব, দুঃখদারিদ্র্য, কুসংস্কার, বর্ণবৈষম্য, অস্পৃশ্যতার কথা স্বামীজি মিস নোবেলকে জানিয়েছেন। শ্বেতাঙ্গদের প্রতি ভারতবাসীর মনোভাব, এখানকার আবহাওয়া ইত্যাদি সম্পর্কেও আগাম ধারণা দিতে চেয়েছেন তিনি। এ চিঠিতে ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের কথা নেই, আছে ভারতীয়দের দুঃখ এবং দুঃখ থেকে মুক্তির পথ সন্ধানের প্রসঙ্গ। তাই আলোচ্য 'চিঠি'-কে সামাজিক পত্ররূপে গ্রহণ করাই যথাযথ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

LightBlog

Below Post Ad

LightBlog

AdsG

close