Type Here to Get Search Results !

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সাজেশন ২০২৩ - দ্বিতীয় অধ্যায় – জীবনের প্রবাহমানতা

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান

দ্বিতীয় অধ্যায়

জীবনের প্রবাহমানতা

madhyamik life science suggestion chapter 2


বিভাগ 'ক' 

১. প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটির সম্পূর্ন করে লেখোঃ

(১.১) মানুষের প্রতিটি দেহকোশে অটোজোমের সংখ্যা - 

(ক) 46 

(খ) 44 

(গ) 23 

(ঘ) 22

উত্তরঃ (খ) 44 

(১.২) যে নাইট্রোজেন ক্ষরক কেবলমাত্র RNA তে থাকে তা হল - 

(ক) থাইমিন 

(খ) অ্যাডেনিন 

(গ) গুয়ানিন 

(ঘ) ইউরাসিল

উত্তরঃ (ঘ) ইউরাসিল

(১.৩) মাইটোসিস কোশ বিভাজনের কোন্‌ দশায় ক্রোমোজোমগুলি কোশের বিষুব অঞ্চলে সজ্জিত হয় ও সুস্পষ্টভাবে গোনা যায়? - 

(ক) প্রোফেজ 

(খ) মেটাফেজ 

(গ) অ্যানাফেজ 

(ঘ) টেলোফেজ

উত্তরঃ (খ) মেটাফেজ 

(১.৪) মাইটোসিস কোশ বিভাজনের কোন্‌ দশায় নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে? - 

(ক) টেলোফেজ 

(খ) মেটাফেজ 

(গ) প্রোফেজ 

(ঘ) অ্যানাফেজ

উত্তরঃ (ক) টেলোফেজ

(১.৫) একটি কোশ বিভাজন বেমতন্তু তৈরি হলে তাকে কোন্‌ ধরনের কোশ বিভাজন বলে? - 

(ক) অ্যামাইটোসিস 

(খ) প্রথম মিয়োটিক বিভাজন 

(গ) দ্বিতীয় মিয়োটিক বিভাজন 

(ঘ) মাইটোসিস

 উত্তরঃ (ক) অ্যামাইটোসিস

(১.৬) অযৌন জননের একক হল - 

(ক) জনন কোশ 

(খ) রেণু 

(গ) বুলবিল 

(ঘ) দেহখন্ডক

উত্তরঃ (খ) রেণু

(১.৭) কোন্‌ জীবের নিষেক ব্যতীত স্ত্রীজনন কোশ থেকে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়? - 

(ক) মৌমাছি 

(খ) ব্যাঙ 

(গ) আমগাছ 

(ঘ) পায়রা

উত্তরঃ (ক) মৌমাছি 

(১.৮) যৌন জননের একক হল - 

(ক) জনন অঙ্গ 

(খ) দেহখন্ডক 

(গ) গ্যামেট 

(ঘ) বুলবিল

উত্তরঃ (গ) গ্যামেট

(১.৯) সুস্পষ্ট জনুক্রম দেখা যায় যে উদ্ভিদে তা হল - 

(ক) মস ও ফার্ন 

(খ) আমগাছ 

(গ) পাইনগাছ 

(ঘ) জবা গাছ

উত্তরঃ (ক) মস ও ফার্ন 

(১.১০) পত্রজ মুকুল দ্বারা পাথরকুচির জনন হল - 

(ক) যৌন 

(খ) অযৌন 

(গ) কৃত্রিম 

(ঘ) অঙ্গজ জনন

উত্তরঃ (ঘ) অঙ্গজ জনন

(১.১১) একটি পুষ্পের ক্ষেত্রে যৌন জননের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত স্তবকগুলি হল - 

(ক) বৃতি ও পুংকেশর 

(খ) স্ত্রীস্তবক ও দলমন্ডল 

(গ) দলমন্ডল ও বৃতি 

(ঘ) পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক

উত্তরঃ (ঘ) পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক

(১.১২) দ্বিনিষেক দেখা যায় - 

(ক) একবীজপত্রী উদ্ভিদে 

(খ) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে 

(গ) গুপ্তবীজী উদ্ভিদে 

(ঘ) ব্যক্ত বীজী উদ্ভিদে

উত্তরঃ (গ) গুপ্তবীজী উদ্ভিদে

(১.১৩) স্বপরাগযোগ লক্ষ করা যায় - 

(ক) পেঁপেতে 

(খ) লাউ-এ 

(গ) শিমে 

(ঘ) তালে

উত্তরঃ (গ) শিমে

(১.১৪) সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেকের পরে যেটি বীজে পরিনত হয় তা হল -

(ক) ডিম্বক 

(খ) ডিম্বানু 

(গ) সহকারী কোশ 

(ঘ) ডিম্বাশয়

উত্তরঃ (ক) ডিম্বক

(১.১৫) নিষেকের পর সপুষ্পক উদ্ভিদের ফুলের ডিম্বাশয় রূপান্তরিত হয় - 

(ক) সস্যে 

(খ) ফলে 

(গ) পুষ্পাক্ষে 

(ঘ) বীজে

উত্তরঃ (খ) ফলে

(১.১৬) মানুষের বিকাশের দশা হল - 

(ক) ২ টি 

(খ) ৩ টি 

(গ) ৪ টি 

(ঘ) ৫ টি

উত্তরঃ (ঘ) ৫ টি

(১.১৭) কোন্‌ বয়সকে 'ঝঞ্ঝাবিক্ষুদ্ধ কাল' বলা হয় - 

(ক) শৈশব 

(খ) বয়ঃসন্ধি 

(গ) পরিনত 

(ঘ) বার্ধক্য

উত্তরঃ (খ) বয়ঃসন্ধি

(১.১৮) মানুষের বয়ঃসন্ধিকাল হল - 

(ক) ৪ - ১২ বছর 

(খ) ১২ - ২০ বছর 

(গ) ৮ - ১৬ বছর 

(ঘ) ১৮ - ২৫ বছর

উত্তরঃ (খ) ১২ - ২০ বছর

(১.১৯) বহুকোশী জীবের বৃদ্ধিতে কটি দশা দেখা যায় - 

(ক) ৩ টি 

(খ) ৪ টি 

(গ) ৫ টি 

(ঘ) ৬ টি 

উত্তরঃ (ক) ৩ টি 

(১.২০) মানুষের মুখ্য বৃদ্ধি কাল হল - 

(ক) বার্ধক্য 

(খ) পরিনত 

(গ) বয়ঃসন্ধি 

(ঘ) শৈশব

উত্তরঃ (গ) বয়ঃসন্ধি

বিভাগ 'খ' 

২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নির্দেশ অনুসারে লেখোঃ

** নীচের বাক্যগুলিতে উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থানগুলি পূরন করোঃ

(২.১) DNA থেকে DNA এর সংশ্লেষকে __________ বলে।

উত্তরঃ রেপ্লিকেশন

(২.২) প্রানীকোশের বেমতন্তু গঠনে অংশ নেয় ___________।

উত্তরঃ সেন্ট্রোজোম

(২.৩) মিয়োসিস কোশ বিভাজনের ফলে _________ টি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।

উত্তরঃ চার

(২.৪) স্পাইরোগাইরা __________ দ্বারা অযৌন জনন সম্পন্ন করে।

উত্তরঃ খন্ডীভবন

(২.৫) জীবের জীবনচক্র হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড জনুর চক্রাকার আবর্তনকে __________ বলে।

উত্তরঃ জনুক্রম

(২.৬) নিষেকের ফলে উৎপন্ন ডিপ্লয়েড জনুর চক্রাকার আবর্তনকে ___________ বলে।

উত্তরঃ জাইগেট

(২.৭) ফুলের পরাগযোগ জলের মাধ্যমে ঘটলে তাকে _____________ বলে।

উত্তরঃ হাইড্রোফিলি

(২.৮) ____________ মধ্যে ভবিষ্যতের গাছ বা ভ্রূন অবস্থান করে।

উত্তরঃ বীজের

(২.৯) জেনোগ্যামি ___________  পরাগযোগের অন্তর্গত।

উত্তরঃ ইতর

(২.১০) বৃদ্ধির ফলে জীবদেহের শুষ্ক ওজন _________।

উত্তরঃ বাড়ে

(২.১১) জিন হল বৃদ্ধির একটি __________ শর্ত।

উত্তরঃ অভ্যন্তরীন 

(২.১২) উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ________ কলার নীচের কোশস্তরে বৃদ্ধিকরন দশা দেখা যায়।

উত্তরঃ ভাজক ।


** নীচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপন করোঃ

(২.১) ক্রোমাটিন জালিকা ও ক্রোমোজোম হল প্রকৃতপক্ষে DNA অনুর কুন্ডলীকরনের পৃথক পৃথক অবস্থা।

উত্তরঃ সত্য

(২.২) কোশ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেয় মাইটোকন্ড্রিয়া। 

উত্তরঃ সত্য

(২.৩) ফার্ন উদ্ভিদে জনুক্রম দেখা যায়।

উত্তরঃ সত্য

(২.৪) আলু কান্ডজ মুকুলের সাহায্যে জনন সম্পন্ন করে।

উত্তরঃ সত্য 

(২.৫) পুংগ্যানেট ও স্ত্রীগ্যামেটের মিলনকে নিষেক বলে।

উত্তরঃ সত্য

(২.৬) প্লাসমোডিয়াম বহু বিভাজন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে।

উত্তরঃ সত্য

(২.৭) ফুলের সাহায্যকারী স্তবক হল বৃতি ও দলমন্ডল।

উত্তরঃ সত্য

(২.৮) ভুট্টার ফলত্বক ও বীজত্বক পৃথক নয়।

উত্তরঃ সত্য

(২.৯)পুংধানীর মধ্যে পরাগরেনু থাকে।

উত্তরঃ সত্য

(২.১০) মাইটোসিস কোশ বিভাজনের দ্বারা কোশের সংখ্যা বাড়ে।

উত্তরঃ সত্য

(২.১১) ক্রমাগত জল গ্রহন বা জৈব বস্তুর সংশ্লেষের ফলে কোশের আকার বাড়ে।

উত্তরঃ সত্য

(২.১২) বার্ধক্য দশায় স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়।

উত্তরঃ সত্য


** একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাওঃ

(২.১) কোশচক্রের কোন্‌ দশায় DNA সংশ্লেষ হয়? 

উত্তরঃ ইনটারফেজের 'S'দশায়

(২.২) নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত। সে বিষয়টি খুঁজে বার করে নাম লেখোঃ

 বাইভ্যালেন্ট,টেট্রাড,ক্রসিং অভার,মিয়োসিস

উত্তরঃ মিয়োসিস

(২.৩) G2 দশায় সংশ্লেষিত একটি কোশীয় অঙ্গানুর নাম লেখো।

উত্তরঃ মাইটোকনড্রিয়া

(২.৪) পুনরুৎপাদন ঘটে এমন একটি প্রানীর নাম লেখো।

উত্তরঃ হাইড্রা

(২.৯) নীচের সম্পর্কযুক্ত শব্দজোড় দেওয়া আছে। প্রথম জোড়টির সম্পর্ক দেখে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাওঃ

 পুনরুৎপাদনঃঅযৌন জননঃঃঅনুবিস্তারঃ_________।

উত্তরঃ অঙ্গজ জনন

(২.১০) যৌন জনন প্রধানত কী ধরনের কোশ বিভাজনের ওপর নির্ভরশীল?

উত্তরঃ মিয়োসিস

(২.১১) বিটপের কোন্‌ অংশ থেকে ফুল উৎপন্ন হয়? 

উত্তরঃ পুষ্পমুকুল

(২.১২) নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটির একটি বিষয়ের অন্তর্গত। সে বিষয়টি খুজেঁ বার করে নাম লেখোঃ

 একলিঙ্গ ফুল, ক্লীব ফুল, লগ্ন ফুল, অসম্পূর্ন ফুল।

উত্তরঃ অসম্পূর্ন ফুল

(২.১৩) কোন্‌ বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম দ্বিনিষেক শব্দটি ব্যবহার করেন?

উত্তরঃ নাওয়াসিন (১৮৯৮)

(২.১৪) নীচের সম্পর্কযুক্ত শব্দজোড় দেওয়া আছে। প্রথম জোড়টির সম্পর্ক দেখে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাওঃ

 ১৯ বছর-৬০বছরঃপরিনত দশাঃঃ৬০বছরের ঊর্ধেঃ ____________।

উত্তরঃ বার্ধক্য দশা

(২.১৫) বৃদ্ধির দুটি অভ্যন্তরীন শর্তের নাম লেখো।

উত্তরঃ হরমোন ও জিন

(২.১৬) কলা গঠিত হয় কোন্‌ বৃদ্ধি দশায়?

উত্তরঃ কোশীয় বিভেদন দশায়

** 'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ থেকে মিলিয়ে লেখোঃ 

           'ক' স্তম্ভ                          'খ' স্তম্ভ

(২.১০) প্রোফেজ                  (ক) ইকুয়েটোরিয়াল প্লেট গঠন

(২.১১) মেটাফেজ                 (খ) ক্রোমোজোমীয় চলন

(২.১২) অ্যানাফেজ              (গ) নিউক্লিওলাসের অবলুপ্তি

(২.১৩) টেলাফেজ                (ঘ) বোকে দশা

(২.১৪) ইনটারফেজ             (ঙ) খাঁজ সৃষ্টি

                                          (চ) কোশচক্র

উত্তরঃ (২.১০) প্রোফেজ -> (ঘ) বোকে দশা (২.১১) মেটাফেজ -> (ক) ইকুয়েটোরিয়াল প্লেট গঠন (২.১২) অ্যানাফেজ -> (খ) ক্রোমোজোমীয় চলন (২.১৩) টেলাফেজ -> (গ) নিউক্লিওলাসের অবলুপ্তি (২.১৪) ইনটারফেজ -> (চ) কোশ্চক্র

'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ থেকে মিলিয়ে লেখোঃ

                    'ক' স্তম্ভ                    'খ' স্তম্ভ

(২.১০) বিভাজন                           (ক) স্পাইরোগাইরা

(২.১১) কোরকোদ্‌গম                     (খ) প্ল্যানেরিয়া

(২.১২) খন্ডীভবন                          (গ) হাইড্রা

(২.১৩) পুনরুৎপাদন                      (ঘ) মস

(২.১৪) সাইটোকাইনিন                   (ঙ) অ্যামিবা

                                             (চ) বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রন

উত্তরঃ (২.১০) বিভাজন -> (ঙ) অ্যামিবা (২.১১) কোরকোদ্‌গম -> (গ) হাইড্রা (২.১২) খন্ডীভবন -> (ক) স্পাইরোগাইরা (২.১৩) পুনরুৎপাদন -> (খ) প্ল্যানেরয়া (২.১৪) সাইটোকাইনিন -> (চ) বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রন

'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ থেকে মিলিয়ে লেখোঃ 

                'ক' স্তম্ভ                           'খ' স্তম্ভ

(২.১০) গর্ভপত্র                            (ক) উভলিঙ্গ ফুল

(২.১১) স্বপরাগযোগের প্রকার             (খ) বায়ুপরাগী ফুল

(২.১২) ধান                                (গ) পতঙ্গপরাগী ফুল

(২.১৩) আম                               (ঘ) অটোগ্যামি

(২.১৪) কুমড়ো ফুল                       (ঙ) স্ত্রীস্তবকের একক 

                                             (চ) অসম্পূর্ন ফুল

উত্তরঃ (২.১০) গর্ভপত্র -> (ঙ) স্ত্রীস্তবকের একক (২.১১) স্বপরাগযোগের প্রকার -> (ঘ) অটোগ্যামি (২.১২) ধান -> (খ) বায়ুপরাগী ফুল (২.১৩) আম -> (গ) পতঙ্গপরাগী ফুল (২.১৪) কুমড়ো ফুল -> (চ) অসম্পূর্ন ফুল

'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ থেকে মিলিত লেখোঃ

               'ক' স্তম্ভ                           'খ' স্তম্ভ

(২.১০) উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি                (ক) বয়ঃসন্ধি

(২.১১) শৈশবের পরবর্তী বিকাশ দশা     (খ) প্রাথমিক বৃদ্ধি 

(২.১২) জীবের শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি            (গ) গৌন বৃদ্ধি

(২.১৩) উদ্ভিদের প্রস্থে বৃদ্ধি                (ঘ) উপচিতি বিপাক

(২.১৪) মানব বিকাশ                      (ঙ) অপচিতি বিপাক

                                             (চ) ৫ টি দশা

উত্তরঃ (২.১০) উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি -> (খ) প্রাথমিক বৃদ্ধি (২.১১) শৈশবের পরবর্তী বিকাশ দশা -> (ক) বয়ঃসন্ধি (২.১২) জীবের শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি -> (ঘ) উপচতি বিপাক (২.১৩) উদ্ভিদের প্রস্থে বৃদ্ধি -> (গ) গৌন বৃদ্ধি (২.১৪) মানব বিকাশ -> (চ) ৫ টি দশা

বিভাগ 'গ'

৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দুই-তিনটি বাক্যে লেখোঃ

প্রশ্নঃ সেন্ট্রোমিয়ার কাকে বলে?

উত্তরঃ ক্রোমোজোমের মুখ্য খাঁজে অবস্থিত যে গোলাকার গঠনটি দু’টি ক্রোমাটিডকে যুক্ত করে রাখে তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।

প্রশ্নঃ DNA ও RNA - এর পার্থক্য লেখো।

উত্তরঃ DNA ও RNA - এর পার্থক্য হল -

প্রথমত, DNA-তে ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা থাকে, আর RNA-তে রাইবোজ শর্করা থাকে।

দ্বিতীয়ত, DNA বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে, কিন্তু RNA প্রোটিন সংশ্লেষ করে।

প্রশ্নঃ ক্রোমোজোমের দু’টি কাজ লেখো।

উত্তরঃ ক্রোমোজোমে বংশগত পদার্থ অর্থাৎ জিন অবস্থান করে ও ক্রোমোজোম কোশের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রশ্নঃ অ্যামাইটোসিস কাকে বলে?

উত্তরঃ যে সরলতম প্রক্রিয়ায় কোনো জনিতৃ কোশ নিউক্লিয় পর্দার অবলুপ্তি না ঘটিয়ে ক্রোমোজোম ও বেমতন্তু গঠন করে ব্যাতিরেকে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বলে।

প্রশ্নঃ ক্রসিং ওভার কাকে বলে? 

উত্তরঃ মিয়োসিসের-১ এর প্রোফেজ-১ -এর প্যাকাইটিন উপদশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমদ্বয়ের নন – সিস্টার ক্রোমাটিড দু’টির মধ্যে কায়াজমা গঠিত হয় এবং ক্রোমোজোমের দেহাংশের বিনিময় সম্পন্ন হয়, একে ক্রসিং ওভার বলে। 

প্রশ্নঃ মাইটোসিস ও মিয়োসিসের দুটি পার্থক্য উল্লেখ করো।

উত্তরঃ মাইটোসিস ও মিয়োসিসের দুটি পার্থক্য হল -

(১) মাইটোসিস দেহ মাতৃকোশে ঘটে, আর মিয়োসিস জনন মাতৃকোশে ঘটে।

(২) মাইটোসিস কোশ বিভাজনে মাতৃকোশ ও অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে, কিন্তু মিয়োসিস কোশবিভাজনে মাতৃকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ মাইক্রোটিবিউলস কী? এর কাজ কী? 

উত্তরঃ উদ্ভিদ ও প্রাণীকোশের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত সুক্ষ্ম নালিকাগুলিকে মাইক্রোটিবিউলস বলে। 

কাজঃ জল, আয়ন পরিবহণ করে। ওকোশ বিভাজনের সময় বেমতত্ত্ব ও অ্যাস্টার গঠন করে।

প্রশ্নঃ অযৌন জনন কাকে বলে?

উত্তরঃ যে জনন পদ্ধতিতে গ্যামেট উৎপাদন ছাড়াই জনিতৃ জীবের দেহকোশ বিভাজিত হয়ে অথবা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে অপত্য জীব সৃষ্টি হয় তাকে অযৌন জনন বলে।

প্রশ্নঃ ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ কাকে বলে?

উত্তরঃ কোনো জীবের বৈশিষ্ট্যাবলির বাহ্যিক প্রকাশকে ওই জীবের ফিনোটাইপ এবং জিন সংযুক্তির দ্বারা নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যকে তার জিনোটাইপ বলে।

প্রশ্নঃ যৌন জনন কাকে বলে?

উত্তরঃ যে জনন প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোশ-এর মিলনে অপত্য জীব সৃষ্টি হয় তাকে যৌন জনন বলে।

প্রশ্নঃ অ্যালিল বা অ্যালিলোমর্ফ কী? 

উত্তরঃ সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট বিন্দুতে অবস্থিত বিপরীতধর্মী জিনজোড়াকে একে অপরের অ্যালিল বলে। যেমন - লম্বা বেঁটে, সাদা–কালো ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ পরাগযোগ কাকে বলে?

উত্তরঃ ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু সেই ফুলের বা সেই জাতীয় অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হলে, তখন তাকে পরাগযোগ বলে।

প্রশ্নঃ মিয়োসিস কোশ বিভাজনকে হ্রাসবিভাজন বলে কেন?

উত্তরঃ এই প্রকার কোশ বিভাজনে মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম পর পর দুইবার বিভাজিত হয় এবং মাতৃকোশের অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোমযুক্ত চারটি অপত্য কোশ উৎপন্ন করে। তাই মিয়োসিসকে হ্রাসবিভাজন বলে।

প্রশ্নঃ জনন কাকে বলে?

উত্তরঃ যে পদ্ধতিতে জীব নিজ আকৃতি বিশিষ্ট অপত্য জীব সৃষ্টির মাধ্যমে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখে এবং সংখ্যার বৃদ্ধি করে তাকে জনন বলে।

প্রশ্নঃ বয়ঃসন্ধিকাল কাকে বলে?

উত্তরঃ ১২ বছর থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সময়কালকে বয়ঃসন্ধিকাল বলে। এইসময় ছেলে ও মেয়েদের গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় ও যৌন হরমোন ক্ষরণ হয়। 

প্রশ্নঃ ক্রোমোজোমের দু’টি কাজ লেখো।

উত্তরঃ ক্রোমোজোমের দু’টি কাজ হল -

(১) ক্রোমোজোমে বংশগত পদার্থ অর্থাৎ জিন অবস্থান করে।

(২) ক্রোমোজোম কোশের সমস্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রশ্নঃ মাইক্রোপ্রোপাগেশন কাকে বলে? 

উত্তরঃ যে পদ্ধতিতে উদ্ভিদের কোশ, কলা বা অঙ্গ প্রভৃতির ক্ষুদ্রতম অংশ কর্ষণ করে অল্প সময়ে একইরকমের উদ্ভিদের বংশবিস্তার ঘটানো হয় তাকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা অণুবিস্তারণ বলে।

প্রশ্নঃ কোশচক্র কাকে বলে? কোশচক্রের দশাগুলির নাম লেখো। 

উত্তরঃ একটি কোশের একবার বিভাজন শুরু থেকে পরবর্তী বিভাজন শুরু পর্যন্ত যে ঘটনাগুলি ঘটে তার পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে কোশচক্র বলে। কোশচক্রের দশাগুলি হলো - G, S, G, ও M দশা।

প্রশ্নঃ জনুক্রম কাকে বলে? উদাহরণ দাও। 

উত্তরঃ জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশা বা অযৌন ও যৌন জনন দশা বা স্পোরোফাইট ও গ্যামেটোফাইট দশার চক্রাবর্ত আবর্তনকে জনুক্রম বলে। উদাহরণ - উদ্ভিদ – মস, ফার্ন ইত্যাদি। প্রাণী— প্যারামেসিয়াম, মনোসিস্ট ইত্যাদি।

প্রশ্নঃ হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড বলতে কী বোঝায়? 

উত্তরঃ অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম সেটকে বা n সংখ্যক ক্রোমোজোমকে হ্যাপ্লয়েড বলে এবং দ্বিগুণ সংখ্যক বা 2n সংখ্যক ক্রোমোজোমকে ডিপ্লয়েড সেট বলে। উদাহরণ - মানুষের গ্যামেট হ্যাপ্লয়েড প্রকৃতির ও দেহকোশ ডিপ্লয়েড প্রকৃতির।

প্রশ্নঃ গ্যামেট কী? এটি কত প্রকারের ও কী কী?

উত্তরঃ যৌন জননের একককে গ্যামেট বলে। এটি দুই প্রকার, যথা – পুংগ্যামেট বা শুক্রাণু এবং স্ত্রীগ্যামেট বা ডিম্বাণু।

প্রশ্নঃ অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস কী? উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ নিষেক ছাড়াই অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে অপত্য জীব সৃষ্টিকে অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস বলে। উদাহরণ - স্পাইরোগাইরা, বোলতা, মৌমাছি ইত্যাদি।

Madhyamik Suggestion 2023 Download PDF

বিভাগ 'ঘ' 

৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাওঃ 

প্রশ্নঃ কোশ বিভাজন কাকে বলে? কোশ বিভাজনের তাৎপর্য কী?

উত্তরঃ যে কোশটি বিভাজিত হয় তাকে মাতৃকোশ বা জনিতৃকোশ বলে। জনিতৃকোশ বিভাজিত হয়ে যে কোশ সৃষ্টি করে তাকে অপত্যকোশ বলে। জনিতৃকোশ যে পদ্ধতিতে অপত্যকোশ সৃষ্টি করে তাকে কোশ বিভাজন বলে।

কোশ বিভাজনের তাৎপর্যঃ কোশ বিভাজনের প্রধান তাৎপর্য হল –

(১) বৃদ্ধিঃ জীবদেহের বৃদ্ধির জন্য কোশ বিভাজন হয়। কোশ বিভাজিত হয়ে কোশের সংখ্যা বাড়ে, ফলে জীবদেহের বৃদ্ধি ঘটে।

(২) ক্ষয়পূরণঃ আঘাতপ্রাপ্ত স্থানের মেরামতির জন্য কোশ বিভাজিত হয়।

(৩) প্রজনন বা বংশবিস্তারঃ কোশ বিভাজনের দ্বারা এককোশী জীবদের বংশবিস্তার ঘটে। এ ছাড়া রেণু উৎপাদন ও গ্যামেট উৎপাদনের জন্য ও কোশ বিভাজিত হয়।

প্রশ্নঃ পরাগযোগ কাকে বলে? স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের সুবিধা ও অসুবিধা লেখো।

উত্তরঃ যে প্রক্রিয়ায় ফুলের পরাগরেণু একই ফুলে বা একই গাছের অন্য ফুলে বা একটি প্রজাতির অন্য গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়, তাকে পরাগযোগ বলে। এটি দুই প্রকার যথা -

স্বপরাগযোগঃ কোনো ফুলের পরাগরেণু সেই ফুলে বা সেই গাছের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হলে তাকে স্বপরাগযোগ বলে।

স্বপরাগযোগের সুবিধাঃ

(১) বাহকের দরকার হয় না। 

(২) অপত্য জীবে নতুন বৈশিষ্ট্য উৎপন্ন হয় না, সুবিধা একই বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। 

স্বপরাগযোগের অসুবিধাঃ 

(১) উন্নত প্রজাতি সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে না।

ইতর পরাগযোগঃ কোনো ফুলের পরাগরেণু একই প্রজাতির অন্য গাছের ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হলে তাকে ইতর পরাগযোগ বলে। 

ইতর পরাগযোগের সুবিধাঃ – 

(১) অপত্যে নতুন বৈশিষ্ট্য উৎপন্ন হয়। 

(২) অপত্যের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হয়। 

ইতর পরাগযোগের অসুবিধাঃ 

(১) বাহকের উপর নির্ভরশীল বলে পরাগযোগ অনিশ্চিত হয়।

(২) রেণুর অপচয় হয়।

প্রশ্নঃ জনন কাকে বলে? জননের পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তরঃ যে পদ্ধতিতে একটি জনিতৃ জীব থেকে দুই বা ততোধিক অপত্য জীব সৃষ্টি হয় তাকে জনন বলে।

জনন পদ্ধতিঃ জীবজগতে দু-রকমের জনন পদ্ধতি লক্ষ করা যায়, যেমন - (১) অযৌন জনন, (২) যৌন জনন অযৌন জনন পদ্ধতিতে একটি জীব থেকে অসংখ্য অপত্য জীব সৃষ্টি হয়। অ্যামিবার অযৌন জনন দ্বিবিভাজন বা বহুবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। মিউকর রেণুর সাহায্যে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। মস ও ফার্নদের অযৌন জনন রেণুর সাহায্যে সম্পন্ন হয়।এই প্রকার জননে গ্যামেট উৎপাদন হয় না।

যৌন জনন পদ্ধতিতে দুটি জীব প্রধানত পুরুষ ও স্ত্রী পরস্পরের মিলন ঘটে। মিলনকালে তাদের মধ্যে যৌন জননের একক গ্যামেটের বিনিময় ঘটে। পুংগ্যামেট ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনে (নিষেক) জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট থেকে নতুন অপত্য জীব সৃষ্টি হয়। স্পাইরোগাইরা, প্যারামেসিয়াম সংশ্লেষ পদ্ধতিতে যৌন জনন সম্পন্ন করে। উন্নত প্রাণীদের গ্যামেটের মিলন ঘটিয়ে নিষেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়। যেমন - মাছ, ব্যাঙ, পক্ষী, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যৌন মিলন ও নিষেক ঘটে।

প্রশ্নঃ সেন্ট্রোমিয়ার কাকে বলে? সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুয়ায়ী ক্রোমোজোমের শ্রেণিবিভাগ করো আলোচনা করো।

উত্তরঃ ক্রোমোজোমের মুখ্য খাঁজ সংলগ্ন ঘন দানার মতো অংশকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে। সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোম চার প্রকার।

(i) মেটাসেন্ট্রিকঃ সেন্ট্রোমিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করে।

(ii) সাব-মেটাসেন্ট্রিকঃ সেন্ট্রোমিয়ার মধ্যবর্তী স্থানের কাছাকাছি অবস্থান করে।

(iii) অ্যাক্সোসেন্ট্রিকঃ সেন্ট্রোমিয়ার শেষপ্রান্তের কিছুটা ভিতরে অবস্থান করে।

(iv) টেলোসেন্ট্রিকঃ সেন্ট্রোমিয়ার ক্রোমোজোমের শেষ প্রান্তে অবস্থান করে।

প্রশ্নঃ নিষেক কাকে বলে? সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক পদ্ধতি এবং নতুন উদ্ভিদ গঠন সংক্ষেপে আলোচনা করো। 

উত্তরঃ যে পদ্ধতিতে পুংগ্যামেট এবং স্ত্রীগ্যামেট স্থায়ীভাবে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড কোশ জাইগোট গঠন করে নতুন জীব সৃষ্টি করে তাকে নিষেক বলে। 

সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেক পদ্ধতি -

পরাগযোগঃ ফুলের পুংকেশরে পরাগধানী থেকে পরাগরেণু (n) উৎপন্ন হয় এবং বাহক ছাড়া একই ফুলের বা অন্য ফুলের স্ত্রীস্তবকের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়। 

পরাগরেণুর অঙ্কুরোদ্গম এবং পুংগ্যামেট সৃষ্টিঃ গর্ভমুণ্ড থেকে রস শোষণ করে পরাগরেণু স্ফীত হয় এবং অন্তঃত্বক থেকে একটি নল সৃষ্টি করে। একে পরাগরেণুর অঙ্কুরোদ্‌গম বলে। পরাগনালির মধ্যে নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে একটি নালিকা নিউক্লিয়াস এবং একটি জনন নিউক্লিয়াস গঠন করে। জনন নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দু’টি পুংগ্যামেট গঠন করে। 

স্ত্রীগ্যামেট সৃষ্টিঃ ফুলের ডিম্বাশয়ে এক বা একাধিক ডিম্বক থাকে। ডিম্বকে রেণু মাতৃকোশ থেকে চারটি স্ত্রীরেণু বা মেগাস্পোর গঠিত হয়। তিনটি স্ত্রীরেণু নষ্ট হয় এবং একটি সক্রিয় স্ত্রীরেণু ভ্রূণস্থলী গঠন করে এবং পরপর চারবার বিভাজিত হয়ে আটটি নিউক্লিয়াস গঠন করে। এর মধ্যে একটি ডিম্বাণু বা স্ত্রীগ্যামেট থাকে। 

নিষেকঃ পরাগনালি ভ্রুণস্থলীতে প্রবেশ করলে পুংগ্যামেট দু’টির একটি ভ্রুণস্থলীতে উৎপন্ন ডিম্বাণুর (n) সঙ্গে মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) গঠন করে এবং অপর পুংগ্যামেটটি নির্ণীত নিউক্লিয়াসের সঙ্গে মিলিত হয়ে শস্য নিউক্লিয়াস (3n) গঠন করে। জাইগোট থেকে পরে ভ্রুণ গঠিত হয় এবং শস্য নিউক্লিয়াস থেকে শস্য গঠিত হয়। 

ফল ও বীজ গঠনঃ ডিপ্লয়েড জাইগোট মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে ভ্রুণ গঠন করে। ডিম্বকটি বীজে পরিণত হয় এবং ডিম্বাশয় পরিণত হয়ে ফল গঠন করে।

অপত্য উদ্ভিদ গঠনঃ বীজের মধ্যে অবস্থিত ভ্রুণ অনুকূল পরিবেশে অর্থাৎ আলো , উন্নতা, অক্সিজেনের উপস্থিতিতে অঙ্কুরোদ্‌গম ঘটায় এবং নতুন অপত্য উদ্ভি সৃষ্টি করে। এর ভ্রুণমূল অংশ থেকে মূল এবং ভ্রুণমুকুল অংশ থেকে কাণ্ড গঠিত।

প্রশ্নঃ মিয়োসিস কোশ বিভাজন কাকে বলে? এটি কোথায় সম্পন্ন হয়? এর তাৎপর্য উল্লেখ করো।

উত্তরঃ যে কোশ বিভাজন পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম পরপর দুইবার প্রথমে হ্রাসবিভাজন ও পরে সমবিভাজন বিভাজিত হয়ে অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোমযুক্ত চারটি অপত্য কোশ উৎপন্ন করে তাকে মিয়োসিস কোশ বিভাজন বলে। এটি জনন মাতৃকোশে সম্পন্ন হয়। যেমন - মস, ফার্ন ইত্যাদি উদ্ভিদের রেণু মাতৃকোশে, উন্নত উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বাশয়ে প্রাণীদের শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে। 

মিয়োসিসের তাৎপর্যঃ

     ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা মিয়োসিস কোশ বিভাজনে হ্যাপ্লয়েড সংখ্যক ক্রোমোজোমেযুক্ত গ্যামেট উৎপন্ন হয়। হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড কোশ সৃষ্টি হয়। ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস না পেলে গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পেত। তাই ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখতে মিয়োসিস সাহায্য করে। 

জিনের পুনর্বিন্যাসঃ মিয়োসিস কোশ বিভাজনে ক্রসিং ওভার সম্পন্ন হওয়ায় ক্রোমোজোমের দেহাংশের বিনিময় ঘটে। ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস হয়। 

জিনগত ভেদ সৃষ্টিঃ ক্রসিং ওভারের ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন হওয়ায় প্রজাতির মধ্যে জিনগত ভেদ দেখা যায় ৷ 

জনুক্রম নিয়ন্ত্রণঃ মিয়োসিস কোশ বিভাজন সম্পন্ন হওয়ায় জীবদেহে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশার আবর্তন ঘটে । তাই এটি জনুক্রম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

প্রশ্নঃ মাইটোসিস কাকে বলে? মাইটোসিস কোশ বিভাজনের প্রোফেজ ও মেটাফেজ দশার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

উত্তরঃ যে ধারাবাহিক পদ্ধতির সাহায্যে কোনো দেহ মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম একবার বিভাজিত হয়ে সমআকৃতি, সমগুণসম্পন্ন এবং সমান সংখ্যক ক্রোমোজোমযুক্ত দু’টি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে তাকে মাইটোসিস বলে।

প্রোফেজ দশার বৈশিষ্ট্যঃ নিউক্লিয় জালিকা থেকে উৎপন্ন ক্রোমাটিন সূত্রগুলি জল ত্যাগ করে স্পষ্ট হতে থাকে। ক্রোমাটিডগুলি কুণ্ডলীকৃত হয়ে ছোটো ও মোটা হয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম সৃষ্টি হয়। নিউক্লিওলাস ক্রমশ ছোটো হতে হতে এই দশার শেষের দিকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়।

মেটাফেজ দশার বৈশিষ্ট্যঃ নিউক্লীয় পর্দা ও নিউক্লিওলাস সম্পূর্ণ রূপে বিলুপ্ত হয়।ক্রোমোজোমগুলি বিষুব অঞ্চলে বা নিরক্ষীয় তলে অবস্থান করে। বেমতন্তু গঠিত হয়। অবিচ্ছিন্ন বেমতন্তু উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত। ক্রোমোজোমীয় তন্ত উত্তর বা দক্ষিণ মেরু এবং ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

প্রশ্নঃ সাইটোকাইনেসিস কাকে বলে? উদ্ভিদ ও প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস বর্ণনা করো।

উত্তরঃ নিউক্লিয়াসের বিভাজনের পর সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে।

উদ্ভিদকোশে সাইটোকাইনেসিসঃ উদ্ভিদকোশে কোশপাত বা সেলপ্লেট গঠনের মাধ্যমে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয়। টেলোফেজ দশার শেষের দিকে মাইক্রোফিলামেন্ট নামক তত্ত্বগুচ্ছ বিষুব অঞ্চলে জমা হয় এবং একটি প্রাচীরের মতো গঠন তৈরি করে যা ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট নামে পরিচিত। এর সঙ্গে গলগিবডি ভেসিকেল যুক্ত হয়ে কোশপাত গঠন করে। কোশপাতের উভয় পাশে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ সম্ভিত হয়ে কোশপ্রাচীর গঠন করে। ফলে কোশের সাইটোপ্লাজম দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে দুইটি অপত্য কোশের সৃষ্টি হয়।

প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিসঃ প্রাণীকোশে খাঁজ গঠনের মাধ্যমে বা ক্লিভেজ পদ্ধতিতে সাইটোকাইনেসিস হয়। টেলোফেজ দশায় কোশের মধ্যবর্তী স্থানে দুইপাশের কোশপর্দা সংকুচিত হয়ে খাঁজ তৈরি করে। এই খাজ একে অপরের দিকে এগিয়ে আসে এবং পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হয়। ফলে কোশের সাইটোপ্লাজম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় এবং দু’টি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

LightBlog

Below Post Ad

LightBlog

AdsG

close