সাহিত্যের ইতিহাস(আর্য মহাকাব্য)
প্রশ্নঃ- ভারতের সমাজ-সংস্কৃতি,ধর্ম ও সাহিত্যে রামায়ণের প্রভাব আলোচনা কর।
উত্তরঃ-
♦কথামুখ:- মহর্ষি বাল্মীকির কাব্যপ্রতিভার চরমতম নিদর্শন "রামায়ণ"
মহাকাব্য।এটি ভারতের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও প্রাচীন মহত্বমন্ডিত আর্য মহাকাব্য।যুগ
যুগ ধরে ভারতীয় সমাজ,সংস্কৃতি ও
চিন্তাধারার পুষ্টিসাধন করে আসছে।বিভিন্ন স্তরের মানুষের বিচিত্র ভিন্ন
চিন্তাধারার সাথে রামায়ণের কাহিনী অন্তরঙ্গভাবে জড়িত।
বাস্তবিকপক্ষেই ভারতের যা
কিছু উচ্চাদর্শ বিদ্যমান;ঘরের সুসংহত এক
চিত্রকল্প রামায়ণে সুনিপুণভাবে তুলির টানে অঙ্কন করেছেন।এটি একাধারে ধর্ম,অর্থ ও মোক্ষের কামরূপ।তাই বালকাণ্ডে বলা আছে-
"কামার্থগুণসংযুক্তং ধর্মার্থগুণবিস্তরম্।
সমুদ্রমিব রত্নাঢ্যং সর্বশ্রুতি মনোহরম্।।"
অর্থাৎ,এই গ্রন্থটি চতুর্বর্গ ধর্ম,অর্থ,মোক্ষ ও কামের আধার স্বরূপ।রত্নাকর সমুদ্রের ন্যায় ব্যাপ্ত
ও সর্বশ্রুতি মনোহর।
দীপ্তিশালী
মহাকাব্য রামায়ণের মাহাত্ম্য কালের সীমানা অতিক্রম পূর্বক চিরন্তন মর্যাদায় ভূষিত
হয়েছে।কালজয়ী এই মহাকাব্যটি কাব্য,ইতিহাস,আখ্যান ইত্যাদি নামেও খ্যাত।
♦প্রভাব:- ভারতের সমাজ-সংস্কৃতি,ধর্মজীবন ও
সাহিত্যে এই মহাকাব্যের সুদূরপ্রসারী প্রভাব যুগ যুগ ধরে আমাদের সর্বতোভাবে ঋদ্ধ
করে আসছে।বৈদিক কাহিনীর ঐতিহ্য থেকে মুক্ত রামায়ণ এক নবধারার কাব্য কর্মের
প্রকৃষ্ট উদাহরণ।24000 শ্লোকে সমৃদ্ধ
রামায়ণ মহাকাব্যটি 7 টি কাণ্ডে বিভক্ত
ও অনুষ্টুপ ছন্দে রচিত।
♠ভারতীয় সমাজ-সংস্কৃতিতে প্রভাব:-
রামচন্দ্রকে একজন আদর্শ রাজা
রূপে বর্ণনা করার পাশাপাশি বাল্মীকি মুনি বলেছেন যে,প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারতীয়দের আদর্শ কেমন হওয়া উচিৎ।রামচন্দ্র
পিতৃবৎসল পুত্র,প্রজানুরঞ্জক রাজা ও পত্নী
সীতাপ্রেমিক স্বামী।তাই তিনি সমগ্র পুরুষজাতির আদর্শ।রাজ্যবাসী চায় রামরাজত্ব।আবার
সীতা আদর্শগুণে রমণীকূলের রত্ন স্বরূপা।আজও আমরা দশরথ-কৌশল্যার মধ্যে আমাদের
স্নেহকাতর পিতামাতাকে খুঁজে পাই।চার ভ্রাতার মেলবন্ধন,রামচন্দ্র ও হনুমানের বন্ধুত্ব প্রভৃতি প্রবাদবাক্যে পরিণত
হয়েছে।
♠ভারতীয় ধর্মজীবনে প্রভাব:-
ভারতীয়
ধর্মজীবনে রামায়ণের প্রভাব যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান।গ্রাম থেকে শহর,ধনীর প্রাসাদ থেকে দরিদ্রের পর্ণকুটির সর্বত্রই রামায়ণ পাঠ
অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বলে বিবেচিত।শ্রাদ্ধানুষ্ঠান,বারব্রত ইত্যাদিতে রামায়ণ পাঠ্য হয়ে ওঠে আবশ্যিকভাবেই।আর তাছাড়া শরতকালে
উজ্জাপিত দুর্গাপূজাও হল রামচন্দ্রের প্রচলিত অকালবোধনেরই ফল।
♠সাহিত্যে প্রভাব:-
কাব্যজগতে
এমন কোন গ্রন্থ নেই যেখানে রামায়ণ স্পর্শ করেনি।সংস্কৃত সাহিত্যে কালিদাসের "রঘুবংশম্"
মহাকাব্য,ভাসের "প্রতিমা" ও "অভিষেক" নাটক,ভবভূতির "উত্তররামচরিত" নাটক,জয়দেবের "প্রসন্নরাঘব" ইত্যাদি।প্রাদেশিক
সাহিত্যে কৃত্তিবাস ওঝার "শ্রীরামপাঁচালী",তামিলে রচিত "কম্বরামায়ণ",প্রাকৃতে "সেতুবন্ধ",ভানুভক্তের "নেপালি রামায়ণ" ইত্যাদি";আধুনিক বাংলা সাহিত্যে বিদ্যাসাগরের "সীতার
বনবাস",মাইকেল মধুসূদন দত্তের
"মেঘনাদবধ" কাব্য,কবিগুরুর
"বাল্মীকি প্রতিভা" ইত্যাদি অমূল্য সম্পদের সবই রামায়ণ অবলম্বনে রচিত।
♦কথান্তেঃ- পরিশেষে রামায়ণের সুদূরপ্রসারী প্রভাব প্রসঙ্গে প্রজাপতি ব্রহ্মার
আশীর্বাদ বাণীটি উল্লেখ্য-
"যাবৎ স্থাস্যন্তি গিরয়ঃ সরিতশ্চ মহীতলে।
তাবৎ রামায়ণীকথা লোকেষু প্রচরিষ্যতি।"
Class 11 Sanskrit Full Suggestion 2022 | See More… |
Class All Suggestion 2022 PDF | See More… |
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
0 মন্তব্যসমূহ