WBBSE Class 6 History Suggestion - ষষ্ঠ শ্রেণী - ইতিহাস - ষষ্ঠ অধ্যায় - সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাসন
Type Here to Get Search Results !

WBBSE Class 6 History Suggestion - ষষ্ঠ শ্রেণী - ইতিহাস - ষষ্ঠ অধ্যায় - সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাসন

ষষ্ঠ শ্রেণী

ইতিহাস সাজেশন

ষষ্ঠ অধ্যায়

সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাসন
আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে থেকে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের প্রথম ভাগ



সূচনা :
     মহাজনপদ গুলির সাম্রাজ্যে পরিণত হল। মগধ হয়ে উঠল প্রধান রাজ্য। এই রাজ্যের বিখ্যাত রাজা ছিলেন অশোক। তিনি তার কর্ম দক্ষতার গুনে জাতীয় সম্রাটে পরিণত হয়েছিলেন। তার পূজার প্রতি ভালোবাসা জনহিতকর কাজ কে সম্মান জানিয়ে অশোক স্তম্ভ কে ভারতের জাতীয় প্রতীক ধরা হয়। ১৯৫০ সালের ২৬শে জানুয়ারি মাসের সাথে এই অশোক স্তম্ভকে জাতীয় প্রতীক হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছিল। উল্টানো পদ্মের মতো দেখতে তার ওপর অশোক চক্র। চক্রের বাঁদিকে ষাঁড় ও ডান দিকে ঘোড়ার মূর্তি। তবে মনে রাখতে হবে রাজা ও সম্রাট এক নয়।

৬.১ সাম্রাজ্য কি? সম্রাট কে?
     অনেকগুলি রাজ্যজুড়ে গঠিত বড় শাসন এলাকাকে সাম্রাজ্য বলা হয়। যুদ্ধের দ্বারা যিনি এই সাম্রাজ্যের স্থাপন করেন তাকেই বলা হয় সম্রাট, আর মহিলা সম্রাটকে বলা হয় সম্রাজ্ঞী।

৬.২ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সাম্রাজ্য তৈরি হলো কিভাবে?
     ১৬ টি মহাজনপদের কথা তোমরা আগেই জেনেছিল। এই এক একটা মহাজনপদ ছিল এক একটা রাজ্য। মগধ মহাজনপদের পরপর তিনটি রাজবংশ রাজত্ব করেছিল। এইসব রাজারা অন্যান্য মহাজনপদের বেশিরভাগকে নিজের দখলে আনেন। শেষ পর্যন্ত মগধকে ঘিরেই ভারতের প্রথম রাজ্য তৈরি হয়। তার নাম হলো মৌর্য সাম্রাজ্য।

আলেকজান্ডারের ভারতীয় উপমহাদেশে অভিযান :
     খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ অব্দে গ্রিসের ম্যাসেডোনীয় শাসক আলেকজান্ডারের ভারত অভিযানের ফলে ভারতীয় উপমহাদেশে ছোট ছোট রাজ্যগুলির ক্ষমতা ক্রমশ কমে যাওয়ায় চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পক্ষে রাজ্য বিস্তার করা সম্ভব হয়েছিল। আলেকজান্ডার এর সঙ্গে রাজার পুরুর যুদ্ধের ইতিহাস বিখ্যাত হয়েছিল।

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কথা :
     চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য চান্যকের সাহায্যে শেষ নন্দ রাজা ধনানন্দকে পরাজিত করে মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সূচনা করেন এবং ধীরে ধীরে সাম্রাজ্য বিস্তারে অগ্রসর হন।

অর্থশাস্ত্র :
     কৌটিল্য রচিত অর্থশাস্ত্রে রাজ্য শাসন এবং রাজকার্যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা আছে, যার দ্বারা মৌর্য যুগের ইতিহাস জানা যায়। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে নাগাদ বইটির কিছু অংশ লেখা হয়।

মৌর্য সম্রাট অশোক :
     অশোক সমস্ত জীবন ধরে মাত্র একটি যুদ্ধ করেছিলেন। তাতে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। মানুষের আর্তনাতে আকাশ বাতাস ভরে যায়। শেষে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং অহিংসার পথে অগ্রসর হন। তার সম্রাজ্য উত্তরে আফগানিস্তান থেকে দক্ষিনে কর্ণাটক পর্যন্ত, পূর্বে কলিঙ্গ থেকে কাথিয়াবাড় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তার রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র।

সাম্রাজ্য চালানোর নানা দিক :
     মৌর্য সম্রাটরা যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে নিজের সাম্রাজ্য পরিচালনায় মনোযোগী ছিলেন। সকল ক্ষমতাই ছিল সম্রাটের ওপর, তারা দেবতাদের প্রিয় উপাধি ব্যবহার করে প্রজার কাছে নিজের সম্মান আদায় করতেন। মগধ ও প্রধান প্রধান শাসন এলাকাগুলিতে মৌর্য সম্রাটরা দাপটের সঙ্গে সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন। মূলত সম্রাটরা রাজকর্মচারী তথা অমাত্যদের সাহায্যই শাসন চালাতেন। যদিও সম্রাট অশোকের সময় শাসনব্যবস্থা অমাত্যদের পরিবর্তে মহাপাত্রদের উপর নির্ভর করত। এইসময় প্রজাদের উপর কর চাপানো হতো এবং প্রয়োজনে তা ছাড় দেওয়া হতো।

পাটলিপুত্র নগর পরিকল্পনা : মেগাস্থিনিসের চোখে
     কৌটিল্যের লেখা অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াও গ্রীক দূত মেগাস্থিনিসের লেখা ইন্ডিকা থেকেও পাটলিপুত্র নগরের শাসন পরিচালনার কথা জানা যায়। এছাড়া মৌর্য যুগে বিশাল সেনাবাহিনীর কথাও জানা যায়।

মহাস্থানগড় :
     এটি বাংলাদেশের বগুড়া জেলার একটি প্রত্নস্থল। এখানে পাওয়া গেছে মৌর্য যুগের ব্রাহ্মীলিপিতে লেখা একটি লেখ। অশোকের লিপি সাথে দারুণ মিল রয়েছে। আর এর সময়কাল খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক। মহাস্থানে এটি লেখা হয়েছিল। এটি ছিল মহামাত্রদের জন্য লেখা একটি রাজা আদেশ। তাকে বলা আছে রাজারা কিভাবে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করবে। এই দুর্ভিক্ষ ছিল তিন রকমের। যথা পঙ্গপাল ফসল নষ্ট করা দুর্ভিক্ষ, দাবানলের ফসল নষ্ট হওয়ার জন্য দুর্ভিক্ষ এবং বন্যার ফলে দুর্ভিক্ষ।

রাজা হওয়া কি সহজ কথা!
     অর্থশাস্ত্রে বলা হয়েছে রাজা যদি অলস হয় তাই প্রজারাও অলস হবে। কৌটিল্য ২৪ ঘন্টাকে দুই ভাগে ভাগ করেন। প্রতি ১২ ঘন্টায় রাজা যেরকম কাজ করবেন তা হলো -

দিনের বেলায় কাজের তালিকা :
(১) জমা খরচের হিসাব পরীক্ষা করবেন। দেশের সুরক্ষার খোঁজখবর নেবেন।
(২) নগর ও গ্রামীণ জনগণের সুবিধা অসুবিধার কথা শুনবেন।
(৩) স্নান খাওয়া ও পড়াশোনা করবেন।
(৪) নগদ রাজস্ব নেবেন। বিভিন্ন মন্ত্রীদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেবেন।
(৫) মন্ত্রীপরিষদের পরামর্শ নেবেন চিঠি পত্র লিখবেন। গুপ্তচরদের আনা গোপন খবর শুনবেন।
(৬) বিশ্রাম নেবেন বা নিজের খুশিমতো কাজ করবেন। না হলে মন্ত্রীদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন।
(৭) হাতি, ঘোড়া, রথ, সৈন্য-সামন্ত দের অবস্থা খতিয়ে দেখবেন।
(৮) সেনাপতি সঙ্গে যুদ্ধ ও সেনাবাহিনী নিয়ে আলোচনা করবেন।

রাতের বেলায় কাজের তালিকা :
(১) গুপ্তচরদের সঙ্গে কথাবার্তা বলবেন।
(২)  স্নান খাওয়া ও পড়াশোনা করবেন।
(৩) বাজনা শুনতে শুনতে বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নেবেন।
(৪) ও (৫)  ঘুমাবেন। (সব মিলিয়ে সাড়ে চার ঘন্টা ঘুম বরাদ্দ রাজার জন্য)
(৬) বাজনা শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠবেন। শাসনের নানা পদ্ধতি নিয়ে ভাববেন। কি কি কাজ করতে হবে তা নিয়ে চিন্তা করবেন।
(৭) মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। গুপ্তচরদের বিভিন্ন কাজে পাঠাবেন।
(৮) পুরোহিতদের আশীর্বাদ নেবেন। নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করবেন। প্রধান রাঁধুনি ও জ্যোতিষী সঙ্গে দেখা করবেন।

অশোকের ধম্ম :
     অশোকের ধম্ম ও বৌদ্ধ ধর্মের মূল কথায় বেশ কিছু মিল দেখা যায়। তবু ধম্ম বৌদ্ধ ধর্ম নয়। কারণ অষ্টাঙ্গিক মার্গ এর মত বিষয় অশোকের ধম্মে নেই। এমনকি তাতে নির্মাণ লাভের কোথাও নেই। আসলে ধম্ম কতগুলো সামাজিক আচরণের ওপরেই বেশি জোর দেয়। হিংসা না করা এর মূল কথা। প্রাণী হত্যা বন্ধ করার ওপর জোর দিয়েছিলেন অশোক। এমনকি শিকার ও মাছ ধরার উপরেও তিনি নিষেধ জারি করেন। অশোক ঘোষণা করেন, এক প্রাণী অন্য প্রাণীর খাবার হতে পারে না। এর পাশাপাশি দয়া, দান, সত্যকথন এইসব আচরণের কথা ধম্মে বলা হয়েছে। বাবা-মা, গুরুজনদের মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে। এই উপদেশগুলো বিশেষ কারো জন্যই নয়। সব মানুষের জন্যই অশোক তার ধম্মের কথা বলেন। অশোক প্রজাদের নিজের সন্তান বলেছিলেন। তাই মনে করা হতো প্রজারা পিতার মতো সম্রাটকে মানবে। সম্রাটকে মেনে চলায় ছিল মৌর্য শাসন এর মূল ভিত্তি।

মৌর্য শাসন ও জঙ্গলের বাসিন্দা :
     মৌর্য শাসকরা সাধারণ মানুষকে নিজেদের আওতায় আনলেও বনের অধিবাসীদের নীচ, অসভ্য, বুনো, আটবিক, অরণ্যচর মনে করত এবং গাছ কাটা বা পশু পাখি মারার জন্য তাদেরকে শাস্তিও দিত।

৬.৩ মৌর্য শাসনের শেষ দিক, কুশান ও সাতবাহন শাসন :
     সম্রাট অশোকের মৃত্যুর পর যোগ্য  রাজার অভাবে মৌর্য শাসন ধ্বংস হয়ে উত্তর পশ্চিম ভারতে কুষাণ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কুষাণ সাম্রাজ্যের প্রথম দিকে কুজুল কদফিসেস এবং তারপর তার পুত্র বিম কদফিসেস রাজত্ব করলেও এই বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন কনিষ্ক। ৭৮ খ্রিস্টাব্দে শাসক হিসাবে কনিষ্ক নিযুক্ত হন। সেই বছর থেকেই শকাব্দের সূচনা হয়। কনিষ্কের আমলেই কুষাণ সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করে। কুশান রা প্রজাদের একজোট করার জন্য নিজেদের দেবতার পুত্র বলে ঘোষণা করত। শাসন ব্যবস্থার সুবিধার জন্য এই সময় সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে বা ক্ষত্রপে ভাগ করা হতো।

গঙ্গারিদাই :
     গ্রিক ও রোমান সাহিত্যে মগদের পূর্ব দিকে এক শক্তিশালী রাজ্যে কথা পাওয়া যায়। তার নাম গঙ্গারিদাই বা গঙ্গারিদ। টলেমির মতি গঙ্গা নদীর পাঁচটি মুখ বা মোহনার সবটা জুড়ে এই গঙ্গারিদাই। পেরিপ্লাস একে গঙ্গাদেশ বলেছেন। গ্রিক লেখক দিত্তদোরাসের মতে, ভারত বর্ষ বহুজাতির বাস, কিন্তু গঙ্গারিদাই জাতি সবার সেরা। প্রত্নতাত্ত্বিকরা তাম্রলিপ্ত বা তমলুক, চন্দ্রকেতুগড়, দেগঙ্গা প্রভৃতি স্থানে অনেক প্রত্ন উপাদান পেয়েছেন।

কুষাণ কারা?
     মধ্য এশিয়া থেকে কয়েকটি যাযাবর জাতি গোষ্ঠীর পশ্চিম দিকে চলে যায়। এরা এখনকার আফগানিস্তান ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর পশ্চিম অংশে পৌঁছায়। এদের মধ্যে ইউয়ে-ঝি গোষ্ঠী দিয়েছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওই গোষ্ঠীর একটি শাখা ছিল কু এই ষুয়াং। তারা ব্যাকট্রিয়ার ওপর অধিকার কায়েম করেছিল। এরাই ভারতের ইতিহাসে কুষাণ নামে পরিচিত। ধীরে ধীরে কুষাণরা এক বিরাট সাম্রাজ্যে তৈরি করেছিলেন।

কলিঙ্গরাজ খারবেল : হাতি গুম্ফা শিলালিপি :
     মৌর্য বংশের রাজত্বকালে কলিঙ্গ রাজ্য মৌর্যদের আমলে থাকলেও পরবর্তীকালে সেখানে চেদি বংশের রাজাদের শাসন শুরু হয়। হাতি গুম্ফা শিলালিপি থেকে খারবেলের বিষয়ে এবং ভারত বর্ষ সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়।

দক্ষিণ ভারতের সাতবাহন শাসন :
     মৌর্য্য সাম্রাজ্যের পর দক্ষিণ ভারতের প্রথম শাসক সিমুকের হাত ধরে সাতবাহন বংশের সূচনা হয়। এই বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী। নাসিক প্রশস্তি ও কার্লে লেক থেকেই ওই সময়কার শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। সাতবাহন রাজারা প্রজাদের উপর কর আরোপ করেছিলেন। সাতবাহনরাও প্রদেশকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করেছিলেন। তবে কুষাণ ও সাতবাহন রাজাদের আমলে বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।

নাসিক লেখ :
     মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পাওয়া গেছে দুটি লেখ। একটি গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী রাজত্বের ১৮ বছরের এবং অন্যটি হলো ২৪ বছরের। শকদের ধ্বংস করে গৌতমীপুত্র সাতবাহনদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে এনেছিলেন। মনে হয় যে তিনি নাসিক এলাকার ওপর ফের শাসন কায়েম করেছিলেন। মুদ্রা থেকেও এই কথা প্রমাণ হয়। পশ্চিম উপকূল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত পুরো দাক্ষিণাত্য তিনি অধিকার করেছিলেন। শকক্ষত্রপ ও নহপানের বিরুদ্ধে সফল হলেও, কার্দমক বংশের শক রাজা চষ্টনের কাছে গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী পরাজিত হয়েছিলেন।

কুষাণ এবং সাতবাহন শাসন পদ্ধতি :
     কুষাণরা এসেছিলো চীন দেশ থেকে তাই তারা নিজেদের দেবপুত্র বলে ঘোষণা করতেন। কেননা চীন দেশের রাজারা নিজেদের দেবতার পুত্র বলতেন। বিম কদফিসেস দমঅর্ত বা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বার্তাতা উপাধি নিয়েছিলেন। কনিষ্ক উপাধি গ্রহণ করেছিলেন মহারাজা রাজাধিরাজ দেবপুত্র শাহী। কুষাণ শাসনের বৈশিষ্ট্য হলো দুজনে মিলে রাজ্যপাট চালাতে। অনেকক্ষেত্রেই দেখা গেছে বাবা ও ছেলে একসঙ্গে শাসনকাজ চালাতেন। সাম্রাজ্য গুলিকে ভাগ করা হতো কয়েকটি প্রদেশে। প্রদেশের শাসকদের বলা হতো ক্ষত্রপ।
     সাতবাহন শাসন ব্যবস্থার প্রধান ছিলেন রাজা। তিনিই আবার সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। কুষানদের মত সাতবাহনদের শাসকরা শাসনের সুবিধের জন্য বড় অঞ্চলকে ছোট প্রদেশে ভাগ করেছিলেন। শাসনের প্রধান দায়িত্বে থাকত আমাত্য নামে কর্মচারীরা। ভাগ ও বলি নামে দু'রকমের কর নেওয়া হতো। উৎপন্ন ফসলের ছয় ভাগের এক ভাগ অংশ কর হিসেবে নেওয়া হতো। এইসময় বাণিজ্যের খুব উন্নতি হয়েছিল। বণিকদের কাছ থেকে নগদ কর নেওয়া হতো। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে কোনরকম কর নেয়া হতো না। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কর মুকুব করা হতো। তাছাড়া সাতবাহনরা নুনের উপর কর বসিয়েছিলেন।

কনিষ্কের মূর্তি :
     ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে মথুরার কাছে একটি ক্ষেত্র থেকে একটি মূর্তি পাওয়া যায়। সেটার মাথা ও বাহু ভাঙ্গা ছিল। দেখে সেটাকে একজন যোদ্ধা রাজার মূর্তি বলেই মনে হয়েছিল। মূর্তির ডান হাতে একটা রাজদণ্ড ধরা হয়েছে। বাঁ হাতের মুঠোয় কারুকাজ করা তলোয়ারের বাট। লম্বা, হাটু পর্যন্ত কোড রয়েছে তার গায়ে। মূর্তি তার পায়ের বুট জুতো রয়েছে। মূর্তিটির তলার দিকে ব্রাহ্মীলিপি লেখা রয়েছে। তার থেকেই জানা যায় এটা কুষাণ সম্রাট প্রথম কনিষ্কের মূর্তি।

৬.৪ গুপ্ত সাম্রাজ্য :
     উত্তর ভারতে কুষাণ সাম্রাজ্যের লোপ পেলে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সূচনা ঘটে। প্রথম চন্দ্রগুপ্তের আমলে সাম্রাজ্যের বিস্তার লাভ করলেও সমুদ্রগুপ্তের সময় তা বড় আকার ধারন করে। সমুদ্রগুপ্তের পর তার পুত্র দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত এবং শেষে প্রথম কুমারগুপ্ত গুপ্ত বংশের সিংহাসনে বসেন। গুপ্ত শাসন ব্যবস্থায় রাজারা বিভিন্ন উপাধি গ্রহণ করে নিজেদের দেবতার সঙ্গে তুলনা করতেন। গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রদেশ গুলিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা হয়েছিল যাঁদের প্রত্যেকটিকে এক একটি ভুক্তি বলা হত। যদিও তাদের সাহায্যের জন্য রাজ কর্মচারীরা ছিল। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি গুপ্ত সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায়।

এলাহাবাদ প্রশস্তি :
     এলাহাবাদ দুর্গের ভিতরে একটা শিলা লেখা আছে। গুপ্ত যুগের ব্রাহ্মীলিপিতে ও সংস্কৃত ভাষায় খোদাই করা। এলাহাবাদের কৌশাম্বী গ্রামে লেখটি ছিল। পরবর্তী সময়ে মুঘল সম্রাট আকবর সেটিকে তুলে আনিয়ে এলাহাবাদ দুর্গের মধ্যে রাখেন। ওই লেকটিতে প্রশস্তি খোদাই করা আছে। প্রশস্তিটি হরিসেনের লেখা। সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের সভাকবি ছিলেন। লিপিতে আসলে সমুদ্রগুপ্তের গুনোগান করা হয়েছে। সম্রাট হিসেবে সমুদ্রগুপ্তের যুদ্ধ, রাজ্য জয় প্রভৃতির কথা লেখটিতে আছে। পদ্য ও গদ্য দুই ভাষাতেই সেটিকে লেখা। যদিও সমুদ্রগুপ্তের প্রসঙ্গে শুধু ভালো কথাই লেখটিতে বলা হয়েছে। তবুও ওই সময়ের ইতিহাস জানার জন্য একটি জরুরী প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান।

দাক্ষিণাত্যে বাকাটক শাসন :
     উত্তর ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়ে দাক্ষিণাত্যে সাতবাহন বংশের ধ্বংসের পর বাকাটক শাসন শুরু হয়। বাকাটক শাসন ব্যবস্থাতেও রাজ্য শাসন করার জন্য রাজকর্মচারী ছিল। বাকাটক শাসনে প্রদেশগুলোকে রাজ্য বলা হতো এবং প্রদেশের থেকে ছোট অঞ্চল গুলিকে বলা হতো পট্ট বা আহার। এই বংশের রাজা ছিলেন দ্বিতীয় রুদ্রসেন।

গুপ্ত ও বাকাটক প্রশাসন :
     ইতিমধ্যে উপমহাদেশ অনেক পরিবর্তন এসেছে রাজনৈতিক শাসন প্রাধান্য পেয়েছিল। ‌ গণ রাজ্যগুলি কার্যত লোপ পেয়ে গিয়েছিলো। বৈশালী প্রাদেশিক শাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। গুপ্ত শাসক ছিল খুবই সুদৃঢ়।  শাসন ব্যবস্থার শীর্ষে ছিলেন সম্রাট। তারা বিশাল বিশাল উপাধি গ্রহণ করতেন। বাকাটক রাজারা অবশ্য শুধুই মহারাজ উপাধি নিতেন। নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভুত্ব দেখানোর জন্য গুপ্তরা বড় বড় যজ্ঞ করতেন। রাজাকে শাসন কাজে সাহায্য করত রাজ কর্মচারীরা। আমাত্য বা সচিব ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজকর্মচারী। শাসনকার্যে সুবিধার জন্য প্রদেশগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। প্রদেশগুলিকে বলা হতো ভুক্তি, প্রদেশের শাসনভার থাকতো রাজপুত্রদের উপর। বাকাটকদের আমলে প্রদেশগুলোতে বলা হতো রাজ্য। রাজ্যের শাসক দল বলা হতো সেনাপতি। অঞ্চল গুলিকে বলা হতো পট্টহার। গুপ্ত সাম্রাজ্যের শাসনে রাজপুত্র ও রানীদের বিশেষ ভূমিকা ছিল।

চন্দ্ররাজার স্তম্ভ :
     দিল্লির কুতুবমিনার এর কাছে একটি উঁচু লোহার স্তম্ভ আছে। তার গায়ে একটি লেখ খোদাই করা হয়েছিল। তাতে চন্দ্র নামে একটি শক্তিশালী বিষ্ণুভক্ত রাজার যুদ্ধ জয়ের বর্ণনা আছে। লেখটিতে কোন সাল ও তারিখ উল্লেখ করা নেই। চন্দ্র রাজাকে তাও পরিষ্কার করে বলা নেই। লেখটি সম্ভবত খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে খোদাই করা হয়েছিল। ওই চন্দ্ররাজাকে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বলেই মনে করা হয়। লেখটিও তারই সমকালীন। তাছাড়া দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিষ্ণুর ভক্ত ছিলেন। তবে অনেক মিল সত্বেও লেখতে বলা হয় সমস্ত অঞ্চল দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত জয় করেননি। এই বর্ণনা অনেকটাই কাল্পনিক।

৬.৫ গুপ্তদের পর উত্তর ভারতের অবস্থা :
    পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে মুক্তি দেয়ার ক্ষমতা ক্রমশ কমতে থাকল। এক সময় ভেঙ্গে গেলে। ফলে গড়ে উঠল ছোট ছোট রাজ্য। এই সমস্ত রাজ্যের নামকরণ হলো আঞ্চলিক রাজ্য।

পুষ্যভূতিদের রাজ্য : হর্ষবর্ধনের শাসন :
     গুপ্ত সাম্রাজ্য ধ্বংসের পর পুষ্যভূতি বংশের হর্ষবর্ধন বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। কিন্তু গৌড় রাজা শশাঙ্ক ও চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশীর সঙ্গে বিরোধে হর্ষবর্ধনকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য করে। শাসন ব্যবস্থায় তাকে সাহায্য করত মন্ত্রিপরিষদ। এই সময়ও কৃষক ও বনিকদের থেকে প্রাপ্ত করের সাহায্যে শাসনব্যবস্থা চালাত।

বাণভট্টের হর্ষচরিত :
     বানভট্ট হর্ষবর্ধনের নিয়ে হর্ষচরিত কাব্য লেখেন। এটি আদতে একটি প্রশস্তি কাব্য। অর্থাৎ এই কাব্যে হর্ষের কেবল গুনোগান করা হয়েছে। পাশাপাশি পুষ্যভূতি দের রাজত্ব ও তার ইতিহাস আলোচনা করেছেন বানভট্ট। হর্ষবর্ধনের গুনোগান করতে গিয়ে তার বিরোধীদের ছোট করেছেন বানভট্ট। যেমন রাজা শশাঙ্ককে অনেকভাবে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। হর্ষবর্ধনের বোন রাজ্যশ্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হর্ষচরিত শেষ হয়েছে। হর্ষচরিত আসলে হর্ষবর্ধনের আংশিক জীবনী। তবে শুধু গুনোগান এর জন্য এটিকে নিরপেক্ষ বলে মেনে নেওয়া মুশকিল।

সুয়ান জাং এর বর্ণনায় হর্ষবর্ধন, বৌদ্ধ সম্মেলন ও প্রয়োগের মহাদান :
     সপ্তম শতকের প্রথম ভাগে ভারতবর্ষে আগত চীনা বৌদ্ধ ভিক্ষু সুয়ান জাং তার সি ইউ কি গ্রন্থে হর্ষবর্ধনের কোন গানের পাশাপাশি তার বৌদ্ধ প্রীতি অর্থাৎ হর্ষবর্ধন কর্তৃক আয়োজিত বৌদ্ধ সম্মেলন ও প্রয়োগের মহাদান ক্ষেত্রের উল্লেখ করেছেন।

অনুশীলনী

প্রশ্ন : কলিঙ্গ যুদ্ধের ফলাফলের সঙ্গে অশোকের ধম্মের কী সম্পর্ক? ধম্ম তার শাসনকে কতটা প্রভাবিত করেছিল?

প্রশ্ন : বিশ্বের ইতিহাসে অশোক স্মরণীয় কেন?

প্রশ্ন : মৌর্য সম্রাটরা গুপ্তচর কেন নিয়োগ করতেন?

প্রশ্ন : চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের কৃতিত্ব লেখ।

প্রশ্ন : মৌর্য শাসন ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

প্রশ্ন : টীকা লেখ : গৌতমীপুত্র সাতকর্ণী

প্রশ্ন : এলাহাবাদ প্রশস্তি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ।

প্রশ্ন : গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের রাজ্য জয় সম্পর্কে যা জানো সংক্ষেপে আলোচনা করো।

প্রশ্ন : মৌর্য সম্রাট ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা ও মর্যাদার তুলনা করো।

প্রশ্ন : হর্ষবর্ধন সম্পর্কে যা জানো সংক্ষেপে লেখ।

সম্পূর্ণ সাজেশনটি পেতে ঃ এইখানে ক্লিক করুন
Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad

LightBlog

AdsG

close